মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

পিরোজপুর থেকে মোস্তাফিজুর রহমান লাভলু »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, যতদিন শেখ হাসিনা এ দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন ততদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানহানী ঘটবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই।
আজ বুধবার দুপুরে পিরোজপুরের নাজিরপুরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন শেষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, করোনায় বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে বেতন ভাতা প্রনোদনা কমানো হলেও বাংলাদেশে ঘটেছে তার উল্টোটি। করোনা কালেও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে শ ম রেজাউল করিম বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজের সাথে জড়িত ছিল, তাদেরকে জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া জাতীয় পতাকা গাড়িতে উত্তোলন করার সুযোগ দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা এসব ঘৃর্নিত যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের ব্যবস্থা করে প্রমান করেছেন এদেশে অন্যায় করে কেউ পার পাবে না।
পরে মন্ত্রী স্বাস্থ্যবিধি মেনে একই স্থানে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ঢেউটিন ও টাকার চেক বিতরণ অনুষ্ঠান, ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মৎস্য চাষীদের প্রদর্শনী উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষা বৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী দরিদ্র জনগণের জন্য নির্মিত ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ বিভাগের বরিশালের বিভাগীয় প্রধান দীপক চন্দ্র রায়, পিরোজপুর পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নাজিরপুর উপজেলা সাবেক কমান্ডার শেখ আব্দুল লতিফ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. সিরাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প প্রধান মো. হাবিবুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ আজ মাংস, মাছ ও ডিমে স্বয়ং সম্পূর্ণ। শুধুমাত্র মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৯শ’ কোটি টাকা প্রনোদনা দেয়া হয়েছে। গত ২ বছর ভারত ও মায়ানমার থেকে কোরবানীর গরু না আনলেও ঘাটতি হয়নি।
তিনি বলেন, দুধ উৎপাদনে আমরা অচিরেই স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করব। আমাদেরকে এক সময় বলা হত ‘মাছে-ভাতে’ বাঙ্গালী। সেই মাছ আমাদের ভাতের থালা থেকে উধাও হয়ে গেল। আমরা আজ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১২ বছর নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে চাল উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়েছি। মাছ উৎপাদনে আমরা স্বয়ং সম্পূর্ণতার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানী করছি। আমরা আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশকে টাকা-পয়সা ধার দিচ্ছি। ২৭ প্রজাতির হারিয়ে যাওয়া দেশীয় মিস্টিপানির মাছ আবার ফিরিয়ে আনতে আমরা সক্ষম হয়েছি। মন্ত্রী বলেন, কেউ যদি মাছ চাষ করতে চায় আমরা তার পুকুর খনন করে বিনা মূল্যে মাছের পোনাও সরবরাহ করব। চাকুরির পিছনে না ঘুরে যুবকদের উচিত হবে প্রয়োজনে সরকারের ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ডেইরী ফার্ম করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়া এবং পুষ্টিকর খাদ্যের যোগান দেয়া। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিও আরো স্বচল হবে।মন্ত্রী এর আগে নাজিরপুর স্টেডিয়ামে প্রাণিসম্পদ মেলার উদ্বোধন করেন। তিনি মেলার বিভিন্ন ষ্টল ঘুরে দেখেন।
প্রদর্শণী মেলায় আয়োজিত এক সমাবেশে মন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে পুষ্টিকর খাবার এর কোন বিকল্প নেই। মাছ, মাংস, দুধ, ডিম পুষ্টিকর খাবারের শীর্ষে রয়েছে। করোনার সময়ও ভ্যানে করে পল্ট্রি মুরগী, ডিম ও দুধ বিক্রয় করে মানুষের চাহিদা পুরণে তার মন্ত্রণালয় সক্রিয় ছিল।তিনি এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার এর বিষ্ময়কর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো আজ স্তম্ভিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশ আজ ঋণদানকারী দেশের কাতারে উঠেছে। আমাদের সকলের উচিত হবে এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যে যেখানে যে অবস্থানে আছি না কেন, সেখান থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত শক্তিশালী করা এবং তার সরকারকে সহযোগিতা করা।
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »