প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ

বরগুনা থেকে মাহবুব আলম »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বরগুনার বেতাগীতে সবুজ কানন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই সরকারি পাঠ্যবই বিক্রি করায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বেতাগী পৌর শহরের সবুজ কানন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষাবোর্ডের বিপুল পরিমাণ সরকারি পাঠ্যবই সম্প্রতি সকলের অগোচরে অফিস সহকারীর সহায়তায় পুরাতন বই ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করেছেন। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে এবং স্কুলের অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের অবহিত না করে বই বিক্রি করায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি তেলেবেগুনে জ্বেলে ওঠে অশোভন মন্তব্যসহ মারমুখী আচরণ করেন গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘স্কুল পরিচালনা করি আমি। বই বিক্রি করব কি করব না এটা একান্তই আমার নিজস্ব ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমি কাউকে কৈফিয়ত দিতে রাজি নই।’

এ সময় তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের তার স্কুল থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য বার বার বলতে থাকেন। একপর্যায়ে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে যা করতে পারেন করেন।’

বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আ. মালেক বলেন, ‘কাউকে না জানিয়ে এভাবে সরকারি বই বিক্রি করায় সবাই অসন্তুষ্ট। সামান্য কয়টা টাকার লোভ সামলাইতে পারেননি। এটাকে কেউ ভালো চোখে দেখছে না।’

লাইব্রেরিতে অবস্থানরত অফিস সহকারী জলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক স্যারের নির্দেশেই সরকারি বই বিক্রি করা হয়েছে। যদিও আমি সরকারি বহ বিক্রি না করার জন্য স্যারকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু স্যার আমার কথা রাখেননি।’

কত কেজি সরকারি বই বিক্রি করা হয়েছে জানতে চাইলে অফিস সহকারী বলেন, ‘যতটুকু জানি আড়াইশো কেজি বই ২০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত তো দূরের কথা, সরকারি বই বিক্রি বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আমাদেরকেও জানাননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি পাঠ্যপুস্তক বেচাকেনা দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া ভাবে তার দায়িত্ব পালন করছেন। তার এহেন স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে স্কুলটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শুভ্রা দাস বলেন, ‘সরকারি পাঠ্যপুস্তক বিক্রি করার সুযোগ নেই। যদি সরকারি পাঠ্যপুস্তক কেউ বিক্রি করে থাকেন তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »