তিন বছরে শুধু জমি অধিগ্রহণে আটকে আছে জবির নতুন ক্যাম্পাস

জবি থেকে মো.সোহেল »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের অবকাঠামোতে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ

কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ও অবকাঠামো সংকট প্রকট থাকায় শিক্ষার্থীরা হলের দাবিতে আন্দোলন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসলে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ঘোষণা দেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন: ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন করে একনেক সভা।

পরের বছর ২৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের নকশা দেখেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন ক্যাম্পাসের প্রাথমিক এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৯২০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। শনিবার এ প্রকল্প অনুমোদনের তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে। তবে শুধু জমি অধিগ্রহণেই আটকে আছে প্রকল্পের কাজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সহ-সভাপতি সুমাইয়া সোমা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ বার বার পরিবর্তন করা হচ্ছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ ছাড়া কিছুই হয়নি। শিক্ষার্থীরা একমাত্র মাঠ বাঁচাতে আন্দোলন করছে। কিন্তু প্রশাসন তাতে সহযোগীতা করছে না। কাজ কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না তাও শিক্ষার্থীদের জানাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর, পরিকল্পনা ও প্রকৌশল ভবন নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, হ্রদ খনন, পুকুর খনন, ঘাট নির্মাণ, সংযোগ সেতু নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ সারফেস ড্রেন নির্মাণ ও মাস্টারপ্ল্যানের কাজ করার কথা রয়েছে। তবে তিন বছরে প্রকল্পটির প্রায় ১৮৮ একর জমি অধিগ্রহণ শেষসহ আরও ১২ একর অধিগ্রহণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

তবে কাজের আর কোন অগ্রগতি না হওয়ার কারণ হিসেবে করোনা মহামারিকে দায়ী করছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে প্রাচীর নির্মাণের জন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের পহেলা অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নের প্রাথমিক এ প্রকল্পটির বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্তির পর দ্রুত কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

নতুন ক্যাম্পাসের কাজের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসের ১৮৮ একর জমি অধিগ্রহণসহ বাকি ১২ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। প্রাচীর নির্মাণসহ বাকি উন্নয়নমূলক কাজ প্রক্রিয়াধীন। নতুন ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে বলে প্রত্যাশা তার।

একই কথা বললেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ। বলেন, ‘করোনার জন্য কাজ একটু পিছিয়ে পড়েছে বলে জানতে পেরেছি। বর্তমান উপাচার্য স্যারের সাথে আমরা এ বিষয়ে কথা বলেছি। দ্রুত কাজ বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »