শ্রীমঙ্গলে আ’লীগের জয়

অনলাইন ডেস্ক »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আ’লীগের প্রার্থী ভানু লাল রায়। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা পরিষদের হলরুমে বেসরকারি ভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

ভানু লাল রায় ৫৮ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পেয়েছেন ৩৩ হাজার ২৮৩ ভোট।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক পেয়েছেন ১২ হাজার ৪৪৬ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিজানুর রব পেয়েছেন ৭৯৪ ভোট।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটবর্জন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রেম সাগর হাজরা (আনারস)।

প্রেম সাগর হাজরা অভিযোগ করে বলেন, ভোটের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও দখল করে রেখে জাল ভোট দিয়েছেন। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। বিকেল ৩টার দিকে দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা সেন্টারের সামনে আমার কর্মী মোহন রবি দাশকে নৌকা প্রতিকের সমর্থকরা মারধর করে। এতে মোহন রবি দাশের মাথা ফেটে যায়। এই বিষয়গুলো তুলে ধরে নির্বাচন প্রত্যাক্ষ্যাণ করছি।

তিনি বলেন, চা শ্রমিকরা বার বার জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে আসছেন। আমি চা শ্রমিকের সন্তান হয়ে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু আমরা যাদের বার বার ভোট দিয়ে বিজয়ী করি, তারাই আমাদের এই নির্বাচনে কারচুপি করলো। আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক অভিযোগ করে বলেন, আমরাও আওয়ামী লীগ করি। কিন্তু আওয়ামী লীগ কর্মীরা যেভাবে একটি সুন্দর ভোটকে কারচুপির মাধ্যমে নষ্ট করেছে সেটা নিয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। আমাদের এই নির্বাচনে বিজয়ের কথা ছিল। কিন্তু যেভাবে সব ভোট কেন্দ্র দখল করে নৌকায় ছিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে এই নির্বাচন আমরা বর্জন করেছি।

এদিকে, দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে র‌্যাবের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়। সেখানে গ্রামবাসীর হামলায় দুই র‌্যাব সদস্য আহত হন। আহতরা হলেন- ল্যান্স নায়েক আক্তার ও কনস্টেবল আবু বকর। পরে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা ও মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ভোট বর্জনের বিষয়টি আইনগত সিদ্ধ নয়। দুই প্রার্থীর ভোট বর্জনের কথা আমরা লোকমুখে শুনেছি। প্রার্থীরা আমাদের জানায় নি। এখানে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট হয়েছে। কিছু ভোট কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেটা সামাল দিয়েছে। কোথাও কোন কারচুপি হয়নি। ভোট শতভাগ সুষ্ঠু হয়েছে।

গত ২১ মে এই উপজেলার চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব মারা যান। পরে চেয়ারম্যান পদটি শুন্য ঘোষণা করা হয়। একটি পৌরসভা নয়টি ইউনিয়নে মিলে এখানে দুই লক্ষ ৩৩ হাজার ৯১৬ জন ভোটার রয়েছেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »