প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শেরপুরের মৃৎশিল্পীরা

শেরপুর থেকে তারিকুল ইসলাম »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ঘরে ঘরে দেবীদুর্গার আগমনী বার্তা। আগামী ১১ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। তাই প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা

জেলার সবচেয়ে প্রাচীন প্রতিমা তৈরি পল্লী উপজেলার বয়রা পালপাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাতদিন পরিশ্রম করে নিপুণ হাতে তৈরি করছেন দেবী দুর্গাকে। সুনিপুণ হাতে রংতুলির ছোঁয়ায় দেবীকে রাঙিয়ে তুলতে ব্যস্ত শিল্পীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেউ কাঁদা তৈরি করছে, কেউ কাঁদা থেকে হাত-পা বানাচ্ছে আবার কেউ ব্যস্ত রং করায় যেন দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েরাও বাবার কাজে সহযোগিতা করছে। বছরের এই সময়টায় কাজের চাপ বেশি থাকায় বসে নেই গৃহিণীরাও। মাটি দিয়ে সুনিপুণ হাতে তৈরি করছেন কারুকাজময় অলংঙ্কার। আর সেই অলংঙ্কার প্রতিমার শরীরে জড়িয়ে দিয়ে সাজিয়ে তুলছেন অনন্যা রূপে।

দি নিউ সোনালী শিল্পালয়ের কর্ণধার প্রতিমা শিল্পী দিলীপ কুমার পাল বলেন, আমি ২৫ বছর এর বেশি সময় যাবত প্রতিমা বানাই। দুর্গা প্রতিমা ছাড়াও সকল ধরণের প্রতিমা আমরা তৈরি করি। এবার ৩৭ টি প্রতিমার অর্ডার পেয়েছি তবে করোনা মহামারি থাকায় পরিশ্রমের তুলনায় দাম সেই ভাবে পাচ্ছিনা। তবে কষ্টের পাশাপাশি আনন্দেরেও কোনো কমতি নেই, কারণ এটা আমার বাপ-দাদার পেশা। বংশ পরম্পরায় এই পেশাতে আমরা আছি তাই ঐতিহ্য ধরে রাখার স্বার্থে এই কাজ করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিমা শিল্পী বলেন, প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে আমাদের খরচও বেড়েছে। কিন্তু পারিশ্রমিক তেমন একটা বাড়েনি। বছরের অনেকটা সময় আমাদের অলসভাবেই কর্মহীন ভাবে থাকতে হয়। বছরের চার মাস থাকে প্রতিমা তৈরির কাজ। উপযুক্ত পারিশ্রমিক না পেলে এই পেশা তাদের ছাড়তে হবে বলেও জানান।

তিনি আরো বলেন, এক সময় এই এলাকায় অনেক মানুষ এই পেশার সাথে জড়িত থাকলেও এখন হাতে গোনা কয়েকজন আছে। তাই এই পল্লীকে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

এ দিকে পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গোৎসব পালনে সব প্রস্তুতির নেওয়া হচ্ছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী ও পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিনয় কুমার সাহা এবং করোনা পরিস্থিতির মধ্যে হলেও জেলায় শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়েই পূজা উদযাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, এবার শেরপুর জেলা সদর উপজেলাসহ মোট পাঁচ উপজেলায় ১৫১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬৬, নকলায় ১৯, নালিতাবাড়ীতে ৩৭, শ্রীবরদীতে ৯ ও ঝিনাইগাতীতে ২০ টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »