সাজা পেয়ে যেন উৎসাহিত অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা

রংপুর প্রতিনিধি »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা পেয়ে যেন আরও উৎসাহিত হচ্ছেন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা। তারা বেপরোয়া চালিয়ে যাচ্ছেন অবৈধ বালু উত্তোলন ব্যবসা। এমনটি ঘটছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা পাইকান বগুলাগাড়ী গ্রামে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার সাহা গত ১৪ সেপ্টেম্বর পাইকান গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ওই দিন তিনি ঘাঘট নদের তলদেশ থেকে অবৈধ ভাবে স্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের দায়ে পাইকান ডাক্তারপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। হামিদুল ও তার বালুর ব্যবসায়ীক সহযোগী পাইকান দোলাপাড়া গ্রামের টিটুল পানাতি (৩৬)।

জরিমানা প্রদানের পর উভয়েই আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। অব্যাহত রেখেছে তাদের যৌথ মালিকানার স্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন ব্যবসা। গত দুই দিন ধরে তারা পাইকান বগুলাগাড়ী গ্রামের ঘাঘট নদে স্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। শুক্র ও শনিবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় তারা সাধারণত এই দুই দিন (দিনে-রাতে) বালু উত্তোলন করে থাকেন।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে পাইকান বগুলাগাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গণের ভয়াল চিত্র। গত দুই বছরে ঘাঘট নদের ওই পয়েন্টে প্রায় এক একর আবাদী ধানের জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গণ পয়েন্টের মাত্র দুই মিটার দূরেই রয়েছে বরেন্দ্র সেচ প্রকল্পের গভীর সেচ পাম্প। এটিও ভাঙ্গণের ফলে চরম হুমকির মুখে রয়েছে। ভাঙ্গণ প্রতিরোধে বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নদে বিলীন জমির মালিক পাইকান গ্রামের আবুল কাশেম, একরামুল হক ও মোজাম্মেল হকসহ এলাকাবাসী।

জমি মালিক আবুল কাশেমের ছেলে লাভলু মিয়া বলেন, পাইকান বগুলাগাড়ী এলাকার জমিগুলো ধান চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই এখানে বরেন্দ্র প্রকল্পের সেচ পাম্প বসানো হয়েছে। এখানকার প্রধান ফসল হচ্ছে ধান। গত দুই বছরে আমার প্রায় ৬০ শতক জমি ঘাঘটে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে আমারসহ পাশের অনেক লোকের জমি ঘাঘটে বিলীন হয়ে যাবে। যা আমাদের বড় ধরনের আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।

রবিউলের বাবা সহিদার রহমান বলেন, আমার মালিকানা জমিতে ঘাঘট নদী। নদীর ওই জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

বালু ব্যবসায়ী টিটুল বলেন, হামিদুলসহ আমরা যৌথ ভাবে বালু উত্তোলন ব্যবসা করছি। যেখানে কারো অভিযোগ থাকে, সেখানে আমরা বালু উত্তোলন করি না।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার সাহা বলেন, অবৈধভাবে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অপরদিকে, বালু পরিবহনে ১৪ চাকার ড্রাম ট্রাম থেকে, প্রাক-মাহেন্দ্র ও ট্রলি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে গ্রামীণ জনপদের রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সড়ক যোগাযোগে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »