বিএনপির জোট ছাড়লো খেলাফত মজলিস

নিজস্ব প্রতিবেদক »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে থাকা নিবন্ধিত দল খেলাফত মজলিস জোট ছেড়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর নয়া পল্টনের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন দলের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক।

তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক জোট ইস্যুকেন্দ্রিক হয়। জোট কোনো স্থায়ী বিষয় নয়। খেলাফত মজলিস ২০ দলীয় জোটে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে আছে। ২০১৯ সাল থেকে ২০ দলীয় জোটের দৃশ্যমান রাজনৈতিক তৎপরতা ও কর্মসূচি নেই। ২০১৮ সালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে ২০ দলীয় জোটকে কার্যত রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর করা হয়েছে। এ অবস্থায় আদর্শিক, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০১৯ সালের মজলিসে শুরায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খেলাফত মজলিস আজকের মজলিসে শুরার অধিবেশনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, খেলাফত মজলিস একটি আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে ময়দানে ভূমিকা রাখবে। এখন থেকে ২০ দলী জোটসহ সব রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করলাম আমরা।’

মাওলানা ইসহাক আরো বলেন, ‘খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরসহ গ্রেপ্তারকৃত উলামায়ে কেরাম ও রাজনৈতিক নেতাদের আশু মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

খেলাফত মজলিস নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতির প্রয়োজনে সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে খেলাফত মজলিস বিশ্বাসী। একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে দেশ, জাতি, ইসলাম ও জনগণের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে।’

‘খেলাফত মজলিস মনে করে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক মতাদর্শ লালন পালন করার অধিকার আছে, যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানেও স্বীকৃত। একটি সরব সক্রিয় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে খেলাফত মজলিসের রাজনৈতিক কর্ম-কৌশল সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে’ বলেন মাওলানা ইসহাক।

তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত মজলিসে শুরার অধিবেশনে ২০ দলীয় জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে, পরবর্তী সিদ্ধান্তের আগে পর্যন্ত খেলাফত মজলিস জোটের কার্যক্রমে অংশ না নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। সে অনুযায়ী দীর্ঘ দুই বছরের অধিক সময় ধরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আসছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- নায়েবে আমির জোবায়ের আহমেদ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক অধ্যাপক মিনহাজুল আবেদিন, যুগ্ম মহাসচিব মোনতাছির আলী, আব্দুল জলিল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ জুলাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ে কওমি আলেমদের পুরোনো দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটির নেতারা ওই দিন সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসার কয়েক ঘণ্টা পর জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন। গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মামলায় জমিয়তের ৬০ জন নেতাকর্মী আসামি হন। এ পরিস্থিতি দলটিকে জোট ছাড়তে বাধ্য করেছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়। যদিও জোট ছাড়ার পর জমিয়তসহ সব দলই বিএনপির বিরুদ্ধে ‘অবহেলার’ অভিযোগ করেছে। অপরদিকে বিএনপি বলেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জোট ছাড়ে জমিয়ত।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মামলায় গত ২৪ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন। এখন পর্যন্ত তার জামিন হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে জোট ছাড়ার পরে তিনি মুক্তি পেতে পারেন। সংবাদ সম্মেলনে তার মুক্তির দাবি জানানো হয়।

১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোট নিয়ে চারদলীয় জোট গঠিত হয়। তখন ইসলামী ঐক্যজোটের পাঁচটি শরিক দলের অন্যতম ছিল শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। একপর্যায়ে শায়খুল হাদিস চারদলীয় জোট ছেড়ে গেলে একাংশ থেকে যায়, তারা খেলাফত মজলিস নামে নতুন দল গঠন করে নিবন্ধন নেয়।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »