আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিতর্কিত করতেই মুনিয়া ইস্যু?

দেশের কণ্ঠ প্রতিবেদক »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুনিয়া ইস্যুর মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি এবং বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচার এবং অপকৌশলে লিপ্ত হয়েছে।

তারাই বিদেশে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সম্পর্কে নানা রকম সত্য-মিথ্যা কল্পকাহিনী প্রচার করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যায় যে, বিদেশ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী সম্বন্ধে বেশুমার মিথ্যাচার এবং কুৎসিত নোংরা আক্রমণ চলছে। সেই আক্রমণের ধারাই আরও একটি নতুন ষড়যন্ত্রের অধ্যায় মুনিয়া ইস্যু বলেই মনে করা হচ্ছে।

মুনিয়া গত ১৯ এপ্রিল গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর পরই গুলশান থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন নুসরাত তানিয়া। পুলিশ তাৎক্ষণিক ভাবে এ মামলাটি গ্রহণ করে এবং তদন্ত শুরু করে।

উল্লেখ্য যে, যদি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রভাব বিস্তার করতে চাইতো বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যদি পক্ষপাতপূর্ণ হতো তাহলে তারা তাৎক্ষণিক ভাবে মামলা গ্রহণ নাও করতে পারতো। কিন্তু সেটি করা হয়নি। বরং আমরা লক্ষ্য করেছি নির্মোহ ভাবে এই তদন্ত করা হয়েছে এবং প্রায় তিন মাস সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণ করে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

কিন্তু এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর নুসরাত এবং তার সঙ্গে মিলে যুদ্ধাপরাধী এবং সুশীল গোষ্ঠী যে কাজটি করছে সেটি সুস্পষ্ট ভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে টার্গেট করা। এখানে বসুন্ধরা গ্রুপ বা যে আট জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা মূল লক্ষ্য নয়। মূল লক্ষ্য হলো আমাদের বর্তমানের পেশাদার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বিতর্কিত করা এবং তাদের সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো।

কারণ, ৮ নং নারী-শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যে এজাহারটি দাখিল করা হয়েছে সেই এজাহারটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সম্পর্কে অনেকগুলো বিদ্বেষপূর্ণ এবং আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ রকম আক্রমণাত্মক এবং কুৎসিত নোংরা আক্রমণ হতে পারে কি না সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে যে মামলাটি করা হয়েছে সেই মামলাটির এজাহারে পরতে পরতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সম্পর্কে বিষেদাগার করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, পুলিশ সঠিক ভাবে তদন্ত করেনি, পুলিশ পক্ষপাতপূর্ণ তদন্ত করেছে। এমনকি পুলিশই নাকি তাদেরকে আত্মহত্যার প্ররোচণা মামলা করার জন্য বলেছে এবং তারা না বুঝেই করেছে।

নুসরাত তানিয়া একজন মামলাবাজ মহিলা। এর আগে তিনি অনেকগুলো মামলা করেছেন বিভিন্ন বিষয়ে। কাজেই, সেই মামলাবাজ একজন মহিলা যিনি মামলা সম্পর্কে অভিজ্ঞ, তিনি পুলিশের কথায় আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা করবেন এটি কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য। কারণ নুসরাত তানিয়া এর আগে বিভিন্ন কারণে আটটি মামলা করেছেন যার মধ্যে চারটি ফৌজদারি মামলা। বোঝাই যায় যে, তিনি এ সম্পর্কে অভিজ্ঞ।

আরও মজার ব্যাপার হলো যে, নুসরাত তানিয়া যখন গুলশান থানায় গিয়েছিলেন তখন তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন গিয়েছিল যাদের মধ্যে আইনজীবী ছিলেন। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি একটি লিখিত এফআইআর দিয়েছিলেন। লিখিত এফআইআরে তিনি কোথাও ধর্ষণের কথা উল্লেখ করেননি। এমনকি মুনিয়াকে যে হত্যা করা হয়েছে সে কথা উল্লেখ করেননি। এতদিন পরে তাহলে হত্যা এবং ধর্ষণের কথা এলো কিভাবে? পুরো মামলার এজাহারটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দেয়া হয়েছে, সেখানে পুলিশের কর্তৃত্ব এবং পুলিশের নিরপেক্ষতাকে চ্যালেঞ্জ করেছে করা হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে যে, যদি নুসরাত তানিয়ার যদি পুলিশের প্রতিবেদন পছন্দ না হয় তাহলের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনেকগুলো উপায় আছে। তিনি উচ্চতর আদালতে যেতে পারেন এবং এটিই নিয়মরীতি। কিন্তু প্রতারণামূলক ভাবে আরেকটি মামলা দায়ের করা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিযোগ আনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেই বিভিন্ন সূত্র মনে করছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »