ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে তরুণীকে হত্যা করা হয়

গাজীপুর থেকে মোফাজ্জল হোসেন »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গাজীপুরে কারখানায় চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক তরুণীকে ধর্ষণের পর বালু নদীতে ফেলে হত্যা করে ওই কারখানার সিকিউরিটি গার্ড। প্রায় ১৪ মাস পর তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃত সোলায়মান আলী (২২) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে। সে ইউনিলিভার ফ্যাক্টরীর কালীগঞ্জ উলুখোলাস্থিত সেলস্ ডিপোতে কর্মরত ছিলেন।

পিবিআই’র পুলিশ সুপার বলেন, গত বছরের ২৩ জুন সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন কালীগঞ্জ থানার মধ্যপানজোরা গ্রামের তাহমিনা (২৫)। সে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। দু’দিন পর অজ্ঞাত হিসেবে তার অর্ধগলিত লাশ নগরভেলা সাকিনস্থ সাহুরঘাট এলাকার বালু নদী থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। পরে লাশটি তাহমিনার বলে শনাক্ত করেন তার বড় বোন জাহানারা। এ ব্যাপারে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যায়, ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশ মামলাটি ১৪ মাস তদন্ত করে। কোন রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস এ মামলাটি পিবিআই গাজীপুর জেলাকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। পিবিআই’র তদন্তকালে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত আসামি সোলায়মান আলীকে (২২) নীলফামারীর ডিমলা থানাধীন পশ্চিম খড়িবাড়ী এলাকাস্থিত তার শ্বশুরবাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতকে নিবিড় ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে তাহমিনা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার তকে আদালতে সোপর্দ করলে সে নিজেকে জড়িয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের নাম উল্লেখ করে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এর প্রেক্ষিতে ক্লুলেস এ ঘটনার প্রায় ১৪ মাস পর চাঞ্চল্যকর মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী তাহমিনা হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

মাকছুদের রহমান বলেন, ভিকটিম তাহমিনাকে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনার দিন ইউনিলিভার ফ্যাক্টরীর সেলস্ ডিপোর পাশে তাদের মেসে নিয়ে যায় সোলায়মানসহ ওই ডিপোতে কর্মরত কয়েকজন সিকিউরিটি গার্ড। সেখানে সোলায়মান ও তার সহযোগীরা ভিকটিমকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ভিকটিমকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সিএনজি ভাড়া করে উলুখোলা ব্রিজে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আসামিরা ভিকটিমকে বালু নদীর পানিতে নিক্ষেপ করে হত্যা করে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »