মায়ের কবরেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এমপি স্বপন

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে রাজিব আহমেদ »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিল্প উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন জন্মভূমি শাহজাদপুরের চুনিয়াখালী পাড়ায় মখদুমিয়া কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে মা হালিমা খাতুন ও বড় ভাই মানিক কেরানীর কবরেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন।

গতকাল শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা শাহজাদপুর হাইস্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা এবং শাহজাদপুর মখদুমিয়া জামে মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শাহজাদপুর চুনিয়াখালিপাড়া শাহ মখদুম কবরস্থানে দাফন করা হয়।

হাসিবুর রহমান স্বপন ১৯৫৬ সালের ১৬ জুন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও নাতী নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এসময় এমপিকে চিরকালের জন্য বিদায় দিতে এবং জানাজায় অংশ নিতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে শাহজাদপুরে।

গত বৃহস্পতিবার (০২ সেপ্টেম্বর) ভোরে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এমপি স্বপন। হাসপাতালের সকল প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার ভোরে তুরস্ক থেকে তার লাশ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। সকালে ঢাকার গুলশান আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার শিরীন শারমিনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সামরিক হেলিকপ্টারযোগে তার লাশ পাবনার বেড়া আব্দুল খালেক স্টেডিয়ামে আনা হয়। সেখানে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান টুকু ও বেড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। সেখান থেকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স যোগে তার লাশ শাহজাদপুর দ্বারিয়াপুর মহল্লার নিজ বাড়ির সামনে স্বজনদের দেখানোর জন্য রাখা হয়। হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং স্বজনরা স্তব্ধ নির্বাক হয়ে দেখতে থাকেন প্রিয় নেতাকে। সেখানে চোখের জলে সিক্ত হন শাহজাদপুরের আপামর জনতা।

তার নামাজে জানাযায় উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমদ, সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাসিবুল হক, সাবেক মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা, কেন্দ্রীয় যুবলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কেএম হোসেন আলী হাসান।

শাহজাদপুরে সাবেক সাংসদ চয়ন ইসলাম, শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা, ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুস্তাক আহমেদ, সাবেক মেয়র হালিমুল হক মিরু, এ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ লাভলু পিপি, সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি রাসেদে ইউসুফ জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক সহ সিরাজগঞ্জ জেলার প্রায় প্রতিটি উজেলার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে তুরস্কের একটি হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন করেন এমপি স্বপন। সফল অস্ত্রোপচার শেষে সুস্থ হয়ে ১২ মার্চ দেশে ফেরেন তিনি। এ অবস্থায় গত ২৫ জুলাই দ্বিতীয় দফায় করোনায় আক্রান্ত হন এবং ২৬ আগষ্ট ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে গত ২৯ আগস্ট তাকে আবারও তুরস্কে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (০২ সেপ্টেম্বর) ভোরে মারা যান তিনি।

১৯৫৬ সালের ১৬ জুন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জন্মগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসিবুর রহমান স্বপন। তিনি আশীর দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বিএনপি প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিরাজগঞ্জ-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পরবর্তীকালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি ১৯৯৮ সালে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে শিল্প উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি ১৯৮৬ সালে তৎকালিন শাহজাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ১৯৯২ সালে শাহজাদপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এরপর তিনি ২০০৯ সালে শাহজাদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসিবুর রহমান স্বপন। তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »