রূপগঞ্জে রাতভর সন্ত্রাসী তাণ্ডব, ২৫ বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে মো. সুমন »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে রাতভর তাণ্ডব চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এসময় তারা বাজারের দোকানপাটসহ ২৫টি বাড়িতে হামলা করে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি ও লুটপাট করেছে।

হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ করে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। এসময় নারী শিশুসহ ১৪ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে তারা। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাম্প্রতিক এক হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে উপজেলার তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী জানান, তার ছেলে মিজান স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। যুবলীগের নেতৃত্ব নিতে সম্প্রতি তারাবো পৌরসভার গন্ধর্বপুর এলাকায় খুন হওয়া সোলাইমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি বরাবো এলাকার ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে শুভ তার সাথে শত্রুতা করে আসছিল। ওইশত্রুতার জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে সন্ত্রাসী শুভ ও কাইল্যা মজিবরের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একটি দল বরাবো এলাকায় ঢুকে প্রথমে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তাদের ৪ তলা বাড়ির প্রতিটি কক্ষ ভাঙচুর লুটপাটসহ বাড়িতে থাকা কয়েকজনকে পিটিয়ে জখম করে। সন্ত্রাসীরা বাইরে থেকে তার বাড়ি লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলিও ছুঁড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। পরে তারা বরাবো ছাপড়া মসজিদ এলাকায় তার মেয়ের জামাই, জামদানি শাড়ি কারখানার মহাজন হারিজ মিয়ার বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুরসহ ৮৭টি জামদানি শাড়ি এবং শ্রমিকদের বেতন দেয়ার ৮ লাখ টাকা লুটে নেয়। এসময় কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করে। পরে তারা হারিজের জামদানি কারখানা ‘হাসিব তাঁত জামদানি’ কারখানায় প্রবেশ করে ৫টি দামি শাড়ির তাঁত কেটে ফেলে।

হামলাকারীরা বরাবো মেমোরি টেক্সাইল গলিতে ঢুকে শহিদুল্লাহর বাড়িতে ভাঙচুর লুটপাট চালায়। পরে তারা বরাবো কবরস্থান রোডে আবুবক্করের বাড়িতে হামলা করে ব্যাপক লুটতরাজ ও ভাঙচুর করে। এছাড়াও সে এলাকার জীবন, শাকিল, পারভেজ, সুমন, আনিছ, চঞ্চল, সিহাব, আরিফ, খায়ের, মনির, রশিদ, আদিল, নোয়াব, ফারুক, বাজিবরসহ আরো ২১ জনের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।

তারা নগদ টাকা, জামদানি শাড়ি, স্বর্ণলংকারসহ অন্তত ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেন। হামলাকালে তারা বাজারের ১৯টি সিসি ক্যামেরা ও ৪টি অটোরিকশা ভেঙে ফেলে। হামলায় আবুবক্কর, বাজিবর, শামীমা, ৬ মাসের শিশু আফরীন, আবির, শারমীন আক্তার রীমা, মনির হোসেন, নুর আলম, কামরুজ্জামান, হযরত আলীসহ অন্তত ১৪ জন জখম হয়েছে। হযরত আলী অভিযোগ করেন, তারাবো পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন এই হামলার নেপথ্য রয়েছে। শুভ ও মজিবর আনোয়ার বাহিনীর সদস্য, এছাড়া ডেমরা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ও আনোয়ারের শ্যালকও এই হামলায় অংশ নেয়। চনপাড়া বস্তি থেকেও ভাড়াটে লোক আনা হয়েছে। যা সিসি ক্যামেরায় স্পষ্ট প্রমান রয়েছ।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আনোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনা ৯ নাম্বার ওয়ার্ডে আর আমি ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। আমি যদি কোনভাবে এই ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকি তাহলে প্রমাণ করুক। তাছাড়া এ সময় আমি এলাকায় ছিলাম না।

এ ঘটনায় হযরত আলী বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া আরো কয়েকটি অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। শুভ এমনিতেই হত্যা মামলার পলাতক আসামি। তাকে পুলিশ খুঁজছে। এভাবে হঠাৎ এলাকায় এসে ত্রাস করবে এটা আমরা ভাবতে পারিনি। আমরা সর্বোচ্চ আইনি পদক্ষেপ নেবো। একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেটা নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়।

 

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »