প্রতিবন্ধী শিশুর হাতে আগুনের ছ্যাঁকা দিলেন শিক্ষক

শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকে আ. আজিজ »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গাজীপুরের শ্রীপুরের নিজমাওনা গ্রামে বিল্লাল হোসেন (১০) নামের এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুর হাতে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষক।

বিল্লাল হোসেন নিজমাওনা গ্রামের বুলবুলের ছেলে। সে ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।

অভিযুক্ত মাইন উদ্দিন শ্রীপুর উপজেলার নগরহাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য, নিজমাওনা কালারবাড়ী মোড় সংলগ্ন স্থানে গত সোমবার দুপুরে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক মাইন উদ্দিন। এ সময় বিল্লাল হোসেন সেখানে যায়। একপর্যায়ে শিক্ষকের বাড়ির সঙ্গে রাখা বালির উপর উঠে শিশুটি খেলতে শুরু করে। এ ঘটনায় শিক্ষক মাইন উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে শিশুটিকে মোড়ের রফিজ উদ্দিনের চায়ের দোকানের সামনে নিয়ে যান। পরে দোকানের চুলা থেকে আগুন নিয়ে শিশুটির হাত ঝলসে দেন অভিযুক্ত। শিশুটির কান্না শুরু করলে স্থানীয়রা লবন পানি দিয়ে শিশুটিকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

স্থানীয় করিমের ভাষ্য, তারা বেশ কয়েকজন দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় শিক্ষক এই শিশুটিকে নিয়ে দোকানে প্রবেশ করেন। তারা কিছু বুঝে উঠার আগেই শিশুটিকে হাতে ছেঁকা দিয়ে দেন এই শিক্ষক। একজন শিক্ষকের এমন অমানবিক কাজে আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

শিশুটির দাদা লাল মিয়া বলেন, আমার নাতি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। বুঝে না বুঝে হয়তো সে মাস্টারের বাড়ির কাজ দেখতে গিয়েছিল। তার জন্য কি এভাবে হাতে আগুনের ছেকা দিয়ে দেবে? আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার বাবা এসে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে গেছেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে আবার দেখে নেয়ারও হুমকী দিয়েছেন। তারা প্রভাবশালী তাদের ভয়ে এখনও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সাহস পাচ্ছি না।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, বিষয়টি জানতাম না। তবে এ খবর শোনা মাত্রই সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের দায়িত্বই হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের আদর ভালোবাসার মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া। তবে একজন শিক্ষক যদি শিশুকে হাতে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে থাকেন তাহলে তা নিন্দনীয় ঘটনা। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »