বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ত্রাণ সহায়তা দিয়ে দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় গত চার দিন ধরে চার হাজার অসহায়, দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাল বসুন্ধরা গ্রুপ।

সোমবার ত্রাণ পেয়ে রহিম উদ্দিন বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ হামাক (আমাকে) খাবার দাবার দিল খুব উপকার হইল।

হাকিমপুরের সাইফুল ইসলাম নামের এক বৃদ্ধ বলেন, কোন কাম কাইজ নাই। তোমার ত্রাণ পায় (পেয়ে) খুব উপকার হইলো।

নবাবগঞ্জে হাশেম আলী বলেন, হামার বয়স হইছে (আমার বয়স হয়েছে)। কাম করবা পারু না (কাজ করতে পারি না)। একটা ছুয়া আছে হোটোলত কাম করে (একটা ছেলে আছে হোটেলে কাজ করে)। হামারে পয়সা (আমাকে টাকা) দেয় না। হামি সাহায্য চাইয়ে খাই (আমি সাহায্য চেয়ে খাই)। এলা ত্রাণ হামাক আগে কেউ দেয় নাই (এমন ত্রাণ আমাকে আগে কেউ দেয় নাই)। তোমরা ভালো থাকেন।

বৃদ্ধ গৌরবালার নিঃসঙ্গ জীবনে স্বামী, ছেলে-মেয়ে নেই। ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনের শেষ সময়টা পার করছেন।

বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পেয়ে তিনি বলেন, মোর (আমার) বাড়ি ঘর কিছু নাই। মানুষের দ্বারে দ্বারে বেড়াও খাই, বাবা। তোমরা হামাক (আমাকে) চাল-ডাল দিলা। ওটায় হামি (আমি) অনেক দিন খামু বাবা।

বিরামপুরের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আবদুর রহমান বলেন, আমার ছোট ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। কাজকাম থাকলে সংসার চলে। না থাকলে খুব কষ্টে দিন যায়। বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া এই ত্রাণ আমার খুব উপকার হয়েছে।

বিরামপুরের জাকিরুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছেন। স্ত্রীসহ মা ও দুই মেয়ে নিয়ে কষ্টে আছেন তিনি। বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পেয়ে বলেন, ভাই-বোন ছাড়া কেউ হামার (আমার) সাহায্য করছু (করে) না। আজ তুমরা এলা খাবার দিলা। তোমার জন্য দোয়া করছু (রি)।

সোমবার বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতায় কালের কণ্ঠ শুভসংঘের আয়োজনে বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুর উপজেলার এক হাজার ২০০ অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের সময় তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।

ঘোড়াঘাটে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন ইউএনও রাফিউল আলম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার মেয়র আবদুস সাত্তার মিলনসহ অন্যরা।

হাকিমপুরে ত্রাণ বিতরণকালে উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-উর রশিদ বলেন, করোনার মধ্যে এত দূর থেকে দিনাজপুর জেলায় ত্রাণ সহায়তা দেওয়ায় বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইউএনও মোহাম্মদ নূরে আলম, পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজি, হাকিমপুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহীন রেজা শাহিন, উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন প্রতাব মল্লিক প্রমূখ।

নবাবগঞ্জে দুঃস্থদের হাতে ত্রাণ তুলে দেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। এ সময় তিনিও বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান।

উপস্থিত ছিলেন ইউএনও অনিমেষ সোম, নবাবগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল কাদির প্রমূখ।

বিরামপুরে ত্রাণ বিতরণের সময় উপজেলা চেয়ারম্যান খাইরুল আলম রাজু বসুন্ধরা গ্রুপের মানবিক হাতটা সমাজের অসহায় মানুষের মাঝে আরও বাড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার, বিরামপুর থানার ওসি সুমন কুমার মহন্ত, বিরামপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরমান হোসেন, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুন, সদস্য শরীফ মাহদী আশরাফ জীবন, শুভসংঘের দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি রাসেল ইসলাম, সহ সভাপতি জাকেনুর বাবু, সাধারণ সম্পাদক রশিদুল ইসলাম প্রমূখ।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »