ক্রেডিট কার্ড যেভাবে মানুষের মস্তিষ্ক ও ব্যয়কে প্রভাবিত করে

অনলাইন ডেস্ক »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড। বাড়ছে ব্যবহারকারীর সংখ্যা, চলতি বছরের জুন শেষে দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। বাড়ছে লেনদেন। প্রতি বছর গড়ে লেনদেন বাড়ছে ১ হাজার কোটি টাকা।

ক্রেডিট কার্ড এমন একটি প্রক্রিয়া, যার সাহায্যে মানুষ ব্যাংক থেকে সরাসরি টাকা ঋণ নিয়ে খরচ করতে পারে। কয়েক দশক ধরে পৃথিবীর অনেক দেশে ক্রেডিট কার্ডের প্রচলন রয়েছে, যা ব্যয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে।

কিন্তু এটা এখনও স্পষ্ট নয়, কেন ক্রেডিট কার্ড থেকে মানুষ ব্যয়ে উৎসাহিত হয়। নতুন কিছু গবেষণায় এর কারণ উঠে এসেছে, যেখানে দেখা যায়- কীভাবে গ্রাহকরা একটি ক্রমবর্ধমান সমাজকে ‘নগদহীন’ করে ফেলছে।

ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ক্রয় করা অনেকটা দোকান থেকে বাকিতে পণ্য ক্রয় করার মতো। মানুষ যেমন কোনো দোকান থেকে বাকিতে পণ্য ক্রয় করে পরে সেটির মূল্য পরিশোধ করে; ক্রেডিট কার্ডের বিষয়টিও প্রায় সেরকম। এখানে দোকানিকে ব্যাংকের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করা হয়। দেনা থেকে যায় ব্যাংকে, যা একজন গ্রাহক সময় অনুযায়ী পরিশোধ করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত সংবাদ মাধ্যম ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশিত একটি গবেষণার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ক্রেডিট কার্ড থাকলে মানুষের মন থেকে তার পছন্দের পণ্য ক্রয়ের ব্যাপারে কোনো সংশয় থাকে না।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্রেডিট কার্ড ও নগদ অর্থে পণ্য ক্রয়কারীদের মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপের মধ্যে এটি পার্থক্য প্রামণ করে যে, ক্রেডিটে পণ্য ক্রয়ে একজন ভোক্তার মনে কোনো বাধা কাজ করে না। বরং, এটি গ্রাহককে তার পছন্দের পণ্য ক্রয়ে বেশ উৎসাহ দেয়।

গবেষকরা বলছেন, যখন কোনো ব্যক্তি ক্রেডিট কার্ড নিয়ে কেনাকাটা করতে গিয়ে নিজের পছন্দের পণ্য দেখতে পান, তখন তার মস্তিষ্কের স্নায়বিক ক্রিয়া শুরু হয়। এটি এমন হতে পারে, ওই ব্যক্তি মনে করেন তিনি পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। যে কারণে পণ্যটির প্রতি তিনি আরও বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

ইউনিভার্সিটি অব ইউটার গবেষক (পিএইচডি) এবং সহকারী অধ্যাপক শচীন ব্যাঙ্কার বলেন, ‘যখন ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আপনি কেনাকাটা শুরু করেন, মনে হয় যেন আপনি আরও পুরষ্কার পাচ্ছেন। কিন্তু নগদে কিছু ক্রয় করতে গিয়ে এমনটা অনুভব হয় না। গবেষণার জন্য মূলত এটি স্পষ্ট একটি পার্থক্য ছিল। ’

গবেষকরা তাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ পরিমাপ করতে এক ধরণের চৌম্বকীয় রাগ ব্যবহার করেছিলেন। তারা অংশগ্রহণকারীদের তিনটি ধাপে ৮৪টি দৈনন্দিন পণ্য দেখান। তাদের জিজ্ঞেস করেন, প্রতিটি পণ্য নির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করবেন কিনা। তাদের অর্ধেক পণ্য ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ও বাকি পণ্য কিনতে নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। কোনো পণ্যই ৫০ ডলারের বেশি ছিল না।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, ক্রেতাদের মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপের পার্থক্যের বেশিরভাগই ক্রেডিট কার্ডভিত্তিক। মানুষ পুরষ্কার প্রত্যাশা করার মতোই ক্রেডিটে পণ্য ক্রয় করতে পছন্দ করছে বলে জানান অধ্যাপক শচীন ব্যাঙ্কার।

প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে দেখা গেছে, ডিজিটাল অর্থ প্রদানের সময় ব্যক্তির স্মার্টফোনের শব্দ বা কম্পনগুলো তাকে প্রভাবিত করে। যে কারণে এটি মানুষকে তার নির্দিষ্ট পণ্য ক্রয়ে আরও প্রলুব্ধ করে।

পুনর্গঠিত পিপলস লিজিংয়ের দায়িত্ব পেলেন যারা

অধ্যাপক শচীন আরও বলেন, পরবর্তী গবেষণা হতে পারে উচ্চমূল্যের পণ্যের ওপর। মানুষের ক্রেডিট কার্ডের অত্যধিক ব্যবহার বা অপব্যবহারের প্রবণতাগুলি শনাক্ত করতে এ গবেষণাটি হতে পারে। আগের পরীক্ষাটিতে অংশ নেওয়া সেসব গ্রাহকদের ওপর নজর রাখা হয়েছিল, যারা বেশিরভাগ সময়মতো অর্থ প্রদান করে এবং ক্রেডিট কার্ডগুলি যথাযথভাবে ব্যবহার করেন। তাদের মস্তিষ্কের এসব নিদর্শনগুলো বোঝা গেলে এর সমাধান বের করা এবং মানুষের ক্ষতিকারক ব্যয় আচরণকে শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব বলেও জানান অধ্যাপক শচীন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »