কুকুরকে প্যারাসুট ট্রেনিং দিচ্ছে রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কুকুরকে আকাশ থেকে প্যারাসুট দিয়ে অবতরণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে রাশিয়া। দুর্গম এলাকায় প্যারাট্রুপার দিয়ে সামরিক অভিযান এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টেকনোডিনামিকা।

প্রতিষ্ঠানটি গত মঙ্গলবার জানায়, কুকুরকে প্যারাসুট প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনা রাশিয়ায় এটিই প্রথম। এই ট্রায়ালের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে তারা। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি চেয়ারম্যান পিনচার এবং একটি জার্মান শেফার্ড কুকুর চার হাজার মিটার উঁচু থেকে প্যারাসুটে করে একটি খোলা ময়দানে দারুণভাবে সফট ল্যান্ডিং করতে সমর্থ হয়।

কোম্পানির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চার পেয়ে অফিসার প্রায় সামরিক এবং উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। কিন্তু কিছু এলাকায় হেঁটে যেতে অনেক বেশি সময় লেগে যায় অথবা সেখানে হেলিকপ্টার বা প্লেন অবতরণ করতে পারে না। সেখানে দরকার পড়ে একটি বিশেষ অবতরণ ব্যবস্থা।

চূড়ান্ত ট্রায়ালের অংশ নেওয়া প্যারাসুট বিশেষজ্ঞ ইউরি মিরোনোভ এবং আন্দ্রেই তোরোপকভ বলেন, প্রশিক্ষণ বেশ ভালো হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। আটবার কুকুর নিয়ে ঝাঁপ দেওয়া হয়েছে। তবে এর আগে প্রস্তুতিমূলক বেশ কিছু কাজ করতে হয়েছে। যেমন প্রশিক্ষণের আগে কুকুর দুটিকে কিছু সময়ের জন্য খাবার ও পানি দেওয়া হয়নি। তবে এতে তাদের শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া করে তা জানা সম্ভব হয়নি।

এই ট্রায়ালের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক দিক হচ্ছে, কুকুর দুটি তিন হাজার ফুট উঁচু থেকেও ভূপৃষ্ঠ দেখতে পাচ্ছিল এবং নিজ থেকেই ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করছিল। আগে ধারণা করা হতো, এত উঁচু থেকে কুকুর কিছুই দেখতে পায় না। উড়োজাহাজে থাকার সময় তারা স্বাভাবিক আচরণ করছিল। জানালা দিয়ে মেঘ দেখছিল। নিচে অবতরণের পরও তাদের স্বাভাবিক এবং পরবর্তী নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রস্তুত বলেই মনে হচ্ছিল।

রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সরঞ্জাম তৈরির প্রতিষ্ঠান টেকনোডিনামিকা বিশেষ এই প্যারাসুটের প্রস্তুতকারক। তারা এই প্যারাসুট এমন ভাবেই তৈরি করেছে যেন এই প্যারাসুট দিয়ে একজন মানুষ ৪৫ কিলোগ্রামের একটি কুকুরসহ ঝাঁপ দিতে পারে। এ ছাড়া কুকুরের মনিবকে সঙ্গেও নিয়েও ঝাঁপ দেওয়ার মতো প্যারাসুট তারা তৈরি করেছে।

আন্দ্রেই তোরোপকভ বলেন, দরজা খোলার সঙ্গে কুকুর দুটি একটু ভড়কে যায়। সম্ভবত প্রচণ্ড বাতাস এবং শব্দে এমন আচরণ করছিল। তবে যখন তাদের মনিব সামনে এসে গেলেন, তারা শান্ত হয়ে গেল।

টেকনোডিনামিকা বলছে, এখন আট হাজার ফুট উঁচু থেকে যেন ঝাঁপ দেওয়া যায় এবং এটির সঙ্গে জরুরি অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা যুক্ত করে নতুন প্যারাসুট তৈরির পরিকল্পনা চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ট্রায়াল শেষ করে কুকুর ও প্যারাসুট সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »