ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, শাপলা ক্লিনিক সিলগালা

পাইকগাছা (খুলনা) থেকে আলাউদ্দীন রাজা »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

খুলনার পাইকগাছায় ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শাপলা ক্লিনিক সিলগালা করে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নিহত আবু সুফিয়ান (৭) দাকোপ উপজেলার গড়খালী গ্রামের সালাম সরদারের ছেলে।

জানা যায়, উপজেলার পৌর সদরে অবস্থিত শাপলা ক্লিনিক অবস্থিত। শুক্রবার দুপুরে সালাম সরদার তার ছেলে আবু সুফিয়ানকে (৭) এপেন্ডিসাইটিসের সমস্যা নিয়ে শাপলা ক্লিনিকে ভর্তি করান। সাড়ে ১১ হাজার টাকা চুক্তিতে বিকেলে সুফিয়ানকে চিকিৎসক নামধারী মোটরসাইকেলচালক ফারুক, ক্লিনিক মালিক তাপস কুমার মিস্ত্রী ও এ্যানেন্থেশিয়া ডাক্তার প্রিন্স অপারেশন করেন। ভোর রাতে আবু সুফিয়ান নড়াচড়া না করলে রোগীর স্বজনরা ডাক্তার, নার্স কাউকে খুঁজে না পেয়ে ক্লিনিকের মালিক তাপস কুমার মিস্ত্রীকে জানালে তিনি এসে দেখেন আবু সুফিয়ান মারা গেছে।

তখন তাপস কৌশলে তার সুনির্দিষ্ট এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে আবু সুফিয়ানকে খুলনা পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এ্যাম্বুলেন্সে ২শ গজ দূরে গেলে আবু সুফিয়ানের নানা আশরাফ আলী খেয়াল করেন সুফিয়ান মারা গেছে। এ্যাম্বুলেন্স ঘুরিয়ে আসিফ ফিলিং স্টেশনে রাখেন। খবর পেয়ে রোগীর স্বজনরা আসতে থাকেন। পরে পুলিশ আসে।

একপর্যায়ে সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে জানালে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ইফতেখার বিন রাজ্জাককে নিয়ে শনিবার সকাল ১০টার দিকে ক্লিনিকে হাজির হন।

পরে তিনি দেখতে পান ১০ বেডের ক্লিনিকে আছে ১৮ বেড। নেই নার্স, ডাক্তার। অপরিচ্ছন্ন, অব্যবস্থাপনা এবং ক্লিনিক চলতি বছরে নবায়ন না থাকায় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও ক্লিনিক বন্ধ করে সিলগালা করে দেন।

আবু সুফিয়ানের পরিবার মামলা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের নিকট থেকে পুলিশ লিখিত নিয়ে ক্লিনিক মালিককে ছেড়ে দেয়।

পাইকগাছা থানার ওসি (তদন্ত) সরদার ইব্রাহিম হোসেন ও এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবার মামলা না করলে কিছু করার নেই।

ক্লিনিকে থাকা অনিমা রানী এ বিষয়ে কোন কিছু বলতে রাজি হননি।

ইউএনও এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ক্লিনিকের নবায়ন না থাকা, অতিরিক্ত বেড থাকা, অব্যবস্থাপনা, ডাক্তার না থাকার কারণে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

শাপলা ক্লিনিকে ইতোপূর্বে ভুল চিকিৎসার কারণে কয়েকবার খুলনা সিভিল সার্জন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাপস বিভিন্ন লোকের সুপারিশ নিয়ে আবারও ক্লিনিক চালু করে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »