টানা বর্ষণে মৎস্য ঘের-ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

কয়রা (খুলনা) থেকে সদর উদ্দিন আহমেদ »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে টানা চার দিনের বৃষ্টিপাতে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খুলনার কয়রা উপজেলার জনজীবন। স্থবির হয়ে পড়েছে সকল কার্যক্রম।

এতে করে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। ইয়াসের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য মৎস্য ঘের, নষ্ট হয়েছে সবজির ফসল। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।

টানা বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলা বিভিন্ন অঞ্চলে, বীজতলা, ফসলের মাঠ, পুকুর, রাস্তাঘাট ও বাড়ি আঙ্গিনা তলিয়ে গেছে। এতে করে মৎস্য বিভাগের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

গত ২৬ মে ইয়াসের প্রভাবে বেঁড়িবাধ ভেঙে উপজেলার চারটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েন লক্ষাধিক মানুষ। বাঁধ মেরামত করা হলেও পানি সরতে না সরতেই টানা বৃষ্টি পানিতে ফের একাকার খাল, বিল, পুকুর ও রাস্তাঘাট ও মৎস্য ঘের তিনি।

টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বেঁড়িবাধ নিয়ে বন্যা আতঙ্কে পড়েছেন নদী পাড়ের মানুষরা। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।

শুধু তাই নয় যানবাহনের চালকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। দু’চারটি যানবহন বের হলেও ভাড়ার পরিমাণ বাড়ায় দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

ব্যবসায়ীরা বসে থাকলেও মিলছে না কাঙ্খিত ক্রেতা। অলস সময় পার করছেন ইজিবাইক, ভ্যান ও অটোচালকরা। টানা বৃষ্টির ফলে কয়রা সদরের প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

উপজেলা মানব কল্যাণ ইউনিটের সভাপতি মো. আল আমিন ফরহাদ বলেন, ড্রেনেজের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় কয়রা সদরের সড়ক সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। তারপরও রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ভাঙ্গা চোড়া, খানাখন্দে ভরে গেছে।

কয়রার ভ্যানচালক আ. হাই বলেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে মানুষ নেই। ভ্যান চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। সড়কে মানুষ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, কয়রায় কয়েকদিনের টানা বর্ষণে প্রায় দেড় হাজার মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। মৎস্য চাষিদের মাছ টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »