সড়ক দুর্ঘটনায় কার্বন মনোক্সাইডের প্রভাব

অনলাইন ডেস্ক »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সড়ক দুর্ঘটনা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। প্রতিদিনই সড়কে প্রাণ ঝড়ছে; পঙ্গুত্ব বরণ করছেন হাজারো মানুষ। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়।

দেশে সরকারের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনারোধে কাজ করে যাচ্ছে নিরাপদ সড়ক চাই, ইয়েলো ল্যাম্পসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন। তবে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণগুলো চিহ্নিত করে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তবেই সড়ক দুর্ঘটনা লাঘব করা সম্ভব।

সড়ক দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ কার্বন মনোক্সাইড (CO)। যা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ গুলোতে উল্লেখ করা হয়না। রসায়নবিদদের পরীক্ষালব্ধ তথ্যমতে, গাড়ির কালো ধোঁয়া থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড (বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন গ্যাস যা বাতাসের তুলনায় হালকা) প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণের ফলে তাৎক্ষণিক ভাবে মানুষের শরীরে পৌঁছায়। রক্তের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও হানা দেয় এটি। তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের বিচার শক্তি লোপ পায়। মোটরগাড়ির চালকদের দীর্ঘ সময় গাড়িতে থাকতে হয়। ফলে তাদেরও বিচার শক্তি লোপ পায়। একই সাথে বেশিক্ষণ ধরে বা বায়ুতে বেশি ঘনত্বের কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস থাকলে সেই বায়ুতে শ্বাস-প্রশ্বাস চললে বিপাকীয় বৈকল্য দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবে, চালকের এসব সমস্যার জন্য মোটরগাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

অনেক সময় দেখা যায়, চালকেরা ধূমপান করেন। মূলত ধূমপান করলে নিরব ঘাতক খ্যাত CO ধূমপায়ীর স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে। কোনো স্থানে ধূমপানে ৩০০ পিপিএম CO গ্রহণ করলে পাশ্ববর্তী অধূমপায়ীর ১০% হিমোগ্লোবিন নষ্ট হতে পারে।

গাড়ি থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড কিংবা ধূমপানের ফলে সৃষ্ট কার্বন মনোক্সাইড রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বক্সি হিমোগ্লোবিন তৈরি করে,যা রক্তের অক্সিজেন বহন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আট ঘণ্টায় ৮০ পিপিএম CO আক্রমণে কোষের মধ্যে অবসন্নের সৃষ্টি হয়,যা দেহের প্রায় এক-অষ্টমাংশ গ্যালন রক্ত বিনষ্ট হওয়ার সমান। এ ধরণের আক্রমণে ৫% হিমোগ্লোবিন নষ্ট হয় এবং অক্সিজেনের স্বল্পতায় ব্যক্তির মাথা ধরা,মাথা ঝিম্ঝিম্ করা ও অবসন্নভাব চলে আসে। চালকেরা এর জন্যও গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনা।

তবে,যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া থেকে কার্বন মনোক্সাইড নির্গমন রোধ করা কঠিন কিছু না। অন্তদাহ ইঞ্জিনের আংশিক পরিবর্তন ও অন্য কোনো শক্তির উৎস সন্ধান,ইঞ্জিনে উচ্চ তাপমাত্রার চেম্বার যুক্ত করে CO নির্গমন রোধ করা যায়। একই সাথে মোটর গাড়ির জ্বালানীর বিকল্প উদ্ভাবন করতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে মানুষের সচেতনতার পাশাপাশি দরকার বিজ্ঞানসম্মত (বিশেষ করে পরিবেশ রসায়ন) ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা। তাহলে একদিকে যেমন কমবে সড়কে আহাজারি, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ থেকে পৃথিবী কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে।

লেখক :  মোঃ মুরাদ হোসেন; শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »