দেশের কণ্ঠ অসম সাহস ও ধৈর্য নিয়ে এগোবেই

মো. আলমগীর হোসেন »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দৈনিক ‘দেশের কণ্ঠ’ পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে অভিবাদন। ৪ বছর পেরিয়ে ৫ বছরে পা দিচ্ছে ‘দৈনিক দেশের কণ্ঠ’। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আবারো বেড়ে যাওয়ায় ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজন করা থেকে বিরত থেকেছি। আজ পত্রিকা অফিসে অত্যন্ত ছোট পরিসরে একটা কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবো।

তবে সারাদেশের জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের অনুষ্ঠান উদযাপনের অনুরোধকে উপেক্ষা করতে পারলাম না। তাই তাদেরকেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছোট্ট পরিসরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদযাপনের অনুমতি দিয়েছি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জমকালো আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও চেষ্টা করেছি মূল পত্রিকার বাইরে অতিরিক্ত আট পৃষ্ঠার একটা বিশেষ আয়োজন করার।

আমাদের এ বিশেষ আয়োজনে লিখিত ভাবে বাণী না দিলেও নিজ নিজ প্রেস সচিবের মাধ্যমে শুভ কামনা জানিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া লিখিতভাবে শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী, সংস্কৃতি-বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীসহ দেশের বিশিষ্ট গুণীজন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বগণ। সকলের শুভেচ্ছায় আমরা সিক্ত হয়েছি। এ ছাড়া পিআইবির মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক কবি নাসির আহমেদের লেখা আমাদের এ আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে আমার বিশ্বাস।

দেশের কণ্ঠের আজ ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী হলেও পাঠকের কাছে এ পত্রিকাটির বয়স আড়াই বছরের মতো। এর কারণ ২০১৭ সালের ০৮ মে ডিক্লারেশন পাওয়ার পর ২০১৭ সালের ১১ জুন স্বল্পপরিসরে দেশের কণ্ঠের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। এরপর ২০১৮ সালের ০৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত থাকে স্বল্পপরিসরে। সে সময় পত্রিকা পাঠকের কাছে পৌঁছতো না, অর্থাৎ আমরা পত্রিকাটি বাজারে দেইনি। প্রায় দেড় বছর নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পাঠকের চাহিদা বিবেচনা করে ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ‘সব পাঠকের কাগজ’ স্লোগান ধারণ করে দেশের অনেক পত্রিকার ভিড়ে ‘দৈনিক দেশের কণ্ঠ’ নামে আরো একটি নতুন পত্রিকা বাজারে আসে। ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর বাজারে আসলেও নিয়মানুয়ী ২০১৭ সালের ১১ জুনের প্রথম সংখ্যা অনুযায়ী আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে হয় ১১ জুন।

এখন ‘দৈনিক দেশের কণ্ঠ’ প্রিন্ট, অনলাইন ও ই-পেপার- এই তিন ভার্সনে প্রকাশিত হয়। ‘দেশের কণ্ঠ’ এখন অনেক বিস্তৃত। কিন্তু শুরুর গল্পটা এমন সহজ ছিলো না। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছিলো। তখন এই পত্রিকা প্রকাশনার ক্ষেত্রে আমাকে অনেকেই অনেকভাবে নিরুৎসাহিত করেছিলেন এই বলে যে, দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে নতুন পত্রিকার আত্মপ্রকাশ করা আদৌ ঠিক হবে কি না। কিন্তু পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্তে আমি অটল ছিলাম এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করে দেশের ওই রকম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও পত্রিকা প্রকাশ করি। এখন ভাবি সেটা ছিলো আমার এক ধরনের দুঃসাহসিকতা। দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করা অত্যন্ত ব্যয়সাধ্য কাজ এবং এ জন্য প্রচুর অর্থলগ্নির প্রয়োজন হয়।

কিন্তু এই পত্রিকার পেছনে কোনো বড় করপোরেট গ্রুপের অর্থলগ্নি ছিলো না। অর্থলগ্নির কাজটা আমাকেই করতে হয়েছিলো। কারণ এই পত্রিকার প্রকাশক অর্থাৎ মালিকও আমি। পত্রিকার নামটা ভালো হওয়ার কারণে অনেক বড় বড় গ্রুপ পত্রিকাটি কেনার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ দেয়ার প্রস্তাব করেছিলো, কিন্তু সে লোভে আমি পা দেইনি। যেভাবেই হোক, ধার-দেনা করে অর্থের সংস্থান করে পত্রিকাটির পেছনে অর্থলগ্নি করি এবং আজ অবধি করে আসছি।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে ৫ বছরে পা দিচ্ছে দেশের কণ্ঠ। এরই মধ্যে পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে পত্রিকাটি। ব্যাপক জনপ্রিয় না হলেও পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে ‘দেশের কণ্ঠ’-এ আমার আত্মবিশ্বাস। একমাত্র পাঠকের ভালোবাসায়, বিজ্ঞাপনদাতাদের সহযোগিতায়, হকার ও এজেন্টদের আন্তরিকতায় কোনো বড় গ্রুপের অর্থলগ্নি ছাড়াই পথ চলছে ‘দেশের কণ্ঠ’। এ আমাদের এক অন্যরকম শক্তি। এ কারণেই ‘দেশের কণ্ঠ’ কারো মুখাপেক্ষী নয়।

‘দেশের কণ্ঠ’ এমন একটি জাতীয় দৈনিক যেটা দেশের কথা বলবে, দেশের মানুষের কথা বলবে। এ দেশের আপামর মানুষের কণ্ঠই প্রতিধ্বনিত হবে ‘দেশের কণ্ঠ’ পত্রিকায়। এ জায়গা থেকে আমরা একটুও সরে আসিনি, একচুল পরিমাণও ছাড় দেইনি। ‘দেশের কণ্ঠ’ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে দেশের মানুষের কাছেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো দল বা গোষ্ঠীর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়, দায়বদ্ধও নয়। তাই ‘দেশের কণ্ঠ’ সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে দ্বিধা করে না। এর ব্যত্যয় ঘটবে না কখনো।

প্রিয় পাঠক, আপনাদের সাথে নিয়েই আমাদের এ পথচলা। আমাদের এ পথচলায় আমরা সবসময় আপনাদের পাশে পেয়েছি। আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। আপনাদের অবদানের কথা আমরা সবসময়ই কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি। আপনাদের ভালোবাসায় ‘দেশের কণ্ঠ’ অসম সাহস ও ধৈর্য নিয়ে এগোবেই। সবশেষে আবারো পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, হকার, এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সকল শুভানুধ্যায়ীকে অন্তর থেকে আরও একবার কৃতজ্ঞতা। বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়া করোনা মহামারীর কারণে অত্যন্ত খারাপ সময় পার করছে। এ ধূসর সময় কেটে যাবে, সরে যাবে আঁধার। আসবেই আলোকিত সকাল। আবারো হাসি আনন্দে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে পুরো পৃথিবী। সেদিনের অপেক্ষায় আমরা।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »