বিদ্যুৎ বিলে স্ট্যাম্প ফাঁকি, সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) থেকে মো. হুমায়ুন কবীর »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিদ্যুৎ বিলে রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ রূপালী ব্যাংক শাখা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা রয়েছে- পাচঁশত টাকার বেশি যে কাগজে বিল আসবে সেই বিলের কাগজে অবশ্যই ১০ টাকার একটি রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার করতে হবে। বিল পরিশোধের পর নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে রেভিনিউ স্ট্যাম্প লাগিয়েই বিলের কপি গ্রাহককে সরবরাহ করতে হবে। অথচ উপজেলার রূপালী ব্যাংকের শাখায় সেই রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার না করার কারণে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

গত কয়েক বছর ধরেই গ্রাহকদের বিলের কপি পর্যবেক্ষণে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

এদিকে, গ্রাহক কপিতে রেভিনিউ স্ট্যাম্প লাগানো না হলেও স্ট্যাম্প বাবদ বিল প্রতি ১০ টাকা হারে অর্থ কর্তন করা হচ্ছে। প্রতি মাসে বিদ্যুৎ অফিসে দাখিলকৃত স্টেটমেন্টে যার প্রমাণ মিলেছে। ফলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রেভিনিউ স্ট্যাম্প বাবদ অর্থ কেটে রাখলেও সরকারি কোষাগারে সে রাজস্ব জমা হচ্ছে না। গ্রাহকের বিলের বিপরীতে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করে তা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর আওতায় উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে গ্রাহকরা প্রতি মাসে প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল জমা দেন উপজেলার বেসিক ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে। এ দুটি ব্যাংকের মধ্যে বেশীর ভাগ বিল জমা হয় রূপালী ব্যাংকে। বাকি ৩০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয় মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে।

পরে ব্যাংকের মাধ্যমে যে বিলগুলো জমা দেয়া হয় তা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে ঈশ্বরগঞ্জ রূপালী ব্যাংকে জমাকৃত ৫শত টাকার উপরে প্রায় বিলের মধ্যেই নেই রেভিনিউ স্ট্যাম্প।

আবদুল জলিল নামের এক গ্রাহক বলেন, ব্যাংকটিতে আমার এক হাজার ৩শত টাকা এবং প্রতিবেশী ফারুক ইসলামের এক হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই বিলে কোন রেভিনিউ স্ট্যাম্প দেয়নি।

আবদুল কাদির নামের আরেক গ্রাহক বলেন, আমার বিগত দিনে অনেকগুলো বিলে রেভিনিউ স্ট্যাম্প লাগানো হয়নি। পরবর্তীতে আবার ০৬ জুন (রোববার) পাঁচ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি। কিন্তু এতেও রেভিনিউ স্ট্যাম্প লাগানো হয়নি।

আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, ৫০০ টাকার অধিক বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করলে অবশ্যই রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প লাগানোর কথা রয়েছে। আদায়কৃত বিদ্যুৎ বিলের টাকা থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হিসেব করে রেভিনিউ স্ট্যাম্পের টাকা কেটে নেয়। ইচ্ছাকৃত রেভিনিউ না দেয়া অপরাধ।

এ বিষয়ে ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক মো. হাসান মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আমার জানামতে দুই দিন আমরা রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প দিতে পারিনি। একদিন পোষ্ট অফিসে রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ছিল না, অন্যদিন যে ড্রয়ারে রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ছিল সে অসুস্থ থাকার কারণে আসতে পারেনি। তাছাড়া, আমার কাছে এমন কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। কেন রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প লাগানো হচ্ছে না তা ওই শাখা ব্যবস্থাপককের কাছে জানতে চাওয়া হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »