ফসলী জমিতে স্থাপনা

বটিয়াঘাটা (খুলনা) থেকে শাহিন বিশ্বাস »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

খুলনার বটিয়াঘাটায় সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ফসলী জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ফলে ভরাট হচ্ছে শত শত একর ধানের জমি।

বছরের পর বছর এ এলাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে শিল্পপতীরা এসে ধানের জমি ক্রয় করে বিভিন্ন ধরনের কোম্পানী তৈরী করছেন। এক শ্রেণীর দালালরা ওই শিল্পপতীদের এনে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে নাম মাত্র টাকা দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রী করে নিচ্ছেন।

অথচ জমির মালিকদের পূর্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ওই কোম্পানীতে চাকরি দেওয়া ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মোটা অংকের টাকা দালালরা হাতিয়ে নিচ্ছেন শিল্পপতীদের থেকে। কিন্তু জমির মালিকরা সেই পরিমাণ টাকা পাচ্ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার হেতালবুনিয়া, কিসমত ফুলতলা, কাতিয়ানাংলা, ফুলতলা, বরণপাড়া, সুরখালী, রায়পুরসহ বিভিন্ন এলাকার ফসলী জমিতে নির্মাণাধীন স্থাপনা তৈরি হচ্ছে।

সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ খুলনার সুন্দরবন উপকূলবর্তী এ উপজেলা নদী দ্বারা বেষ্টিত। উপজেলার অন্যতম নদ-নদীর মধ্যে কাজিবাছা, ঝপঝপিয়া, মাঙ্গা, ভদ্রা, শৈলমারী নদী উল্লেখযোগ্য। গত তিন/চার বছর ধরে নদ-নদীগুলোর অব্যাহত ভাঙণে নদীর উপকূলবর্তী বসতিরা ভিটে মাটি হারিয়ে গৃহ হারা হয়েছে। পৈত্রিক ভিটে মাটি হারিয়ে অনেকেই আজ নিঃস্ব। তার মধ্যে যদি এভাবে নিজেদের ফসলী জমি দালালদের মাধ্যমে কম মূল্যে বিক্রয় করতে হয় তবে এক সময় বসবাসযোগ্য জায়গাই থাকবে না।

ইতিপূর্বে ভদ্রা নদীর ভাঙণে বারোআড়িয়া বাজার ও বারোআড়িয়া গ্রামের আশিংক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে ওই এলাকার পুলিশ ক্যাম্প, মসজিদ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মন্দির এবং পাউবোর অফিস ভাঙণের পথে। দুইশত পরিবার ভাঙণের হুমকির মুখে রয়েছে। তাছাড়াও পার্শ্ববর্তী ধানের গোডাউন ও অনেক সরকারি স্থাপনাও চরম হুমকির মুখে।

অপরদিকে, কাজিবাছা নদীর ভয়াবহ ভাঙণে বিগত ৫/৬ বছর ধরে শত শত পরিবার গৃহহারা হয়েছে। পুুরাতন ফেরি ঘাট এলাকায় সম্প্রতি বড় ধরনের একটি ভাঙণ দেখা দেওয়ায় বাজার সদর ও তার আশপাশ এলাকার ১০/১৫টি গ্রামের মানুষ রয়েছেন ভাঙণের আতঙ্কে। বর্তমানে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলার ৩০ নং পোল্ডারের বরইতলা নামক স্থানে প্রায় দেড় কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অবস্থা চরম ঝুঁটিপূর্ণ। ইতোমধ্যেই ওই স্থানের খুলনা-চালনা মহাসড়কের তলদেশের দুই তৃতীয়াংশ মাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে কাজিবাছা নদীর উপকূলবর্তী বেড়িবাঁধসমূহ চরম হুমকিতে রয়েছে। এতে দুই উপজেলা দাকোপ ও বটিয়াঘাটার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন হয়ে পড়বে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

এ সমস্ত ভাঙণ কবলিত এলাকার জমি সাধারণ কৃষকের। ভাঙণে জমি হারিয়ে তাদের বসবাসের জায়গাটুকুও নেই।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আশরাফুল আলম খাঁন বলেন, এভাবে যদি এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলী জমি নষ্ট করে স্থাপনা তৈরি করা হয় তবে কয়েক বছরের মধ্যে স্থানীয় চাষীদের চাষাবাদের জমি খুজে পাওয়া যাবে না। চরম বিপাকের মধ্যে পড়তে হবে এ উপজেলার মানুষকে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে পতিত সম্পত্তি, ফসলাদি হয় না সেখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান করলে সাধারণ কৃষকের কোন ক্ষতি হবে না।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »