কিশোর গ্যাং ‘ডি কোম্পানি’র ১২ সদস্য আটক

অনলাইন ডেস্ক »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাং ‘ডি কোম্পানি’র পৃষ্ঠপোষক রাজিব চৌধুরী বাপ্পি ওরফে লন্ডন বাপ্পিসহ ১২ জনকে আটক করেছে র‍্যাব।

শনিবার দিবাগত মধ্য রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত টঙ্গী ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

রোববার বিকেল ৫টার দিকে র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল আব্দুল মোত্তাকিন এ তথ্য জানান।

আটককৃতরা হলো, রাজীব চৌধুরী বাপ্পি ওরফে লন্ডন বাপ্পী (৩৫), চাঁদপুরের মঈন আহমেদ নীরব ওরফে ডন নীরব (২৫), তানভীর হোসেন ওরফে ব্যাটারী তানভীর (২৪), ময়মনসিংহের মোহাম্মদ পারভেজ ওরফে ছোট পারভেজ (১৯), বরিশালের মো. তুহীন ওরফে তারকাটা তুহীন (২১), খুলনার রাজীব আহমেদ নীরব ওরফে টম নীরব (৩০), গাজীপুরের সাইফুল ইসলাম শাওন (২৩), ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার রবিউল হাসান (২০), শাকিল ওরফে বাঘা শাকিল (২৮), ইয়াছিন আরাফাত ওরফে বিস্কুট ইয়াছিন (১৮), মাহফুজুর রহমান ফাহিম (১৮), ময়মনসিংহের ইয়াছিন মিয়া ওরফে প্রিন্স ইয়াছিন (১৯)।

এর আগে গত মঙ্গলবার (০১ জুন) বন্ধুদের নিয়ে টঙ্গীর আরিচপুর (ভূইয়াপাড়া শাহী জামে মসজিদ) মহল্লার টং দোকানে চটপটি ও ফুচকা খাওয়ার সময় কাদা ছুড়ে মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বখাটেদের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র তুষারসহ চার জন আহত হয়।

তুষারের ভাই শুভ্র জানান, মঙ্গলবার রাতে ভূইয়াপাড়া শাহী মসজিদ সংলগ্ন চটপটি দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে চটপটি খাচ্ছিলেন আমার ছোট ভাই তুষার ও তার বন্ধুরা। এ সময় মঈন উদ্দিন নিরব, রবিন, রাশেদ, তুহিন, রাজাসহ তাদের সহযোগী ১০/১২ জন অজ্ঞাত কিশোর আমার ভাইয়ের শরীরে কাদা ছুঁড়ে মারে। এর প্রতিবাদ করায় বখাটেরা আমার ভাইকে এলোপাথারি কিলঘুষি মেরে আহত করে। তার ডাক চিৎকারে আমার অপর ছোট ভাই তুহিন আহম্মেদ, স্থানীয় আকতার হোসেন ও সবুজ ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে বখাটেরা। ওই ঘটনায় আহত তুহিন আহম্মেদ বাদি হয়ে ঘটনার দিন রাতেই টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করেন।

অপরদিকে, বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) রাত ৯টায় আরিচপুর এলাকায় দর্জি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ী আঘাত করে আরজু মিয়া (৩৪), সুজন মিয়া (২৪) এবং তার স্ত্রী রূপালী (২১) কে গুরুতর আহত করে।

হামলার শিকার যুবকরা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাতে থানায় মামলা করতে গেলে কিশোর গ্যাং এর অন্যতম নেতা জুয়েল মাহমুদ পারভেজ মামলা না করতে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়। হুমকি সত্ত্বেও থানায় অভিযোগ করলে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ১৫/২০ জন সদস্য আমাদের বাড়ি ঘর ও দোকানপাটে হামলা চালায়। বখাটে এসব কিশোর ‘ডি কোম্পানি’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত। এই গ্যাং এর প্রতিষ্ঠাতা সজিব চৌধুরী পাপ্পু ইয়াবা ও অস্ত্র মামলায় কারাগারে থাকায় তার বড় ভাই বাপ্পি ও বন্ধু জুয়েল মাহমুদ পারভেজ গ্যাংটি পরিচালনা করেন।

র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডি কোম্পানী ওরফে ডেয়ারিং কোম্পানীর কিশোর গ্যাং গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তারা মাদক সেবন, স্কুল-কলেজে বুলিং র‍্যাগিং, ইভটিজিং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও শেয়ারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ সত্য বলেও স্বীকার করে। আটকের সময় তাদের নিকট থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি চাপাতি, একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »