অপহরণের পর শিশুকে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার

সাভার (ঢাকা) থেকে মো. সিরাজুল ইসলাম »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাভারে বাড়ির মালিকের ছেলেকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনার দুই মাস পর মামলার প্রধান আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার ভোরে পাবনার সুজানগর সদর থানার তারাবাড়ি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আরিফুলকে গ্রেফতার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

এর আগে ঘটনার দিনই পলাতক আরিফুলের স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয়া লিজা আক্তার নামে এক তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার নয় বছরের শিশু রাজা মিয়া আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ি এলাকার কালাম মাতবরের ছেলে। গ্রেফতারকৃত আরিফুল তাদের বাড়ির ভাড়াটে। গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যার পর থেকে শিশু রাজাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাতে তার বাবা কালামের মোবাইলে ফোন করে এক ব্যক্তি রাজাকে অপহরণের কথা জানিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এ সময় তাকে বলা হয়, অপহরণকারী ওই ব্যক্তি রাজধানীর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টর থেকে ফোন করেছেন। এর পর পরই কালাম আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করেন।

তখন এলাকার লোকজন তাকে ফোন করে জানান, তার বাড়ির চারতলার ফ্ল্যাটে আরিফুলের বেলকনিতেই বস্তাবন্দী রাজার মরদেহ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর দিন আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত শিশুর বাবা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন বলেন, ‘ঘটনার দিনই হত্যার অভিযোগে আরিফুলের কথিত স্ত্রীকে আটক করা হয়। কিন্তু তখন থেকেই পলাতক ছিলেন আরিফুল। আরিফ ওই তরুণীকে মিথ্যা স্ত্রী পরিচয় দিয়েই বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। এরপর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায় সে। গত দুই মাস ধরে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করছিলেন তিনি। কখনও নারায়ণগঞ্জ, কখনও গাজীপুর আবার মাওনা এলাকায় তার লোকেশন দেখাচ্ছিল। সবশেষ প্রযুক্তির সহায়তায় পাবনার গ্রামের বাড়িতে আরিফুলের অবস্থান শনাক্ত হয়। পরে রোববার ভোরে অভিযান চালিতে তাকে গ্রেফতার করি।

তিনি বলেন, ‘আসামি আরিফুলের টাকা ও নারীর প্রতি প্রচণ্ড লালসা রয়েছে। এ কারণেই সে বাড়ির মালিকের ছেলে শিশু রাজাকে অপহরণ করে নিজ ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রেখে মুঠোফোনে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করেছিল। আরিফুল পরিকল্পিত ভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।’

নিহত শিশুর বাবার একাধিক স্ত্রী থাকায় হত্যাকাণ্ডের পারিবারিক কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না সে বিষয়ে এসআই বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ সম্পৃক্ত আছে কি না এ জন্য আসামির রিমান্ড চাওয়া হবে। আজ দুপুরেই তাকে ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতে পাঠানো হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »