হুইপ সামশুলকে সংসদ থেকে ছুঁড়ে ফেলার দাবি

অনলাইন ডেস্ক »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রামের পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীকে আওয়ামী লীগের আবর্জনা উল্লেখ করে জাতীয় সংসদ থেকে ছুঁড়ে ফেলার দাবি তুলেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা।

এ অবস্থায় অবর্জনা নামের হুইপ সামশুলকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই ধরে ডাস্টবিনে নিক্ষেপের হুমকিও দেন মঞ্চের নেতারা।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পটিয়ার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সামছুদ্দিন আহম্মদকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে সভাপতি আমিরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে যেমন সূর্য সন্তানরা রয়েছে, তেমনই আছে আবর্জনা ও উচ্ছিষ্ট। তেমনই এক আবর্জনা হচ্ছে জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রামের পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী। যিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রতিনিয়ত হেয় প্রতিপন্ন করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সকল অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছেন সামশুল হক চৌধুরী, তার ছেলে শারুন চৌধুরী। আমরা অতীতে সামশুল হক চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করেছিলাম। এর মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছি এই সমাজে সামশুল হক চৌধুরীর মতো আবর্জনা থাকতে পারে না। এই আবর্জনাগুলোর স্থান কখনো জাতীয় সংসদে হতে পারে না। আমরা অতীতে তাকে প্রতীকী ভাবে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করেছিলাম। কিন্তু আগামীতে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চের নেতাকর্মীরা যেখানেই তাকে পাব সেখান থেকে ধরে সরাসরি ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে এ দেশের কৃষক-শ্রমিকরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলেন। আজ সেই স্বাধীন দেশে বসে যখন সামশুল হক চৌধুরীর মতো লোকেরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে উলঙ্গ করে পেটানোর হুমকি দেন, তখন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ চুপ থাকতে পারে না।’

সামশুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বুলবুল আরও বলেন, ‘আমরা জানি আপনার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বলতে কিছুই নেই। তারপরও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন আপনাকে নমিনেশন দিয়েছে? তা আমরা জানি না। আপনার কারণে জাতীয় সংসদ কলঙ্কিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন বিভিন্ন সময় সিনিয়র অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকে অপদস্থ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে তার বিচার হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা এসব আর বরদাস্ত করবে না। তারা দাঁত ভাঙা জবাব দেবে। সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী মানবপাচারে জড়িত। এছাড়া বাংলাদেশে এমন কোনো দল নেই, যে দলে তিনি যোগ দেননি। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তখন তিনি সেই সরকারের লোক বনে যান। এই গিরগিটির মতো লোকটি আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ভাগারে পরিণত করতে চাচ্ছে।’

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক ও খ্যাতি সম্পন্ন ভাস্কর রাশা বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশ ও মানববন্ধন যে বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে উলঙ্গ করে পেটাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন একজন সাংসদ। পটিয়ার সাংসদ সামশুল হক বলেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধাকে উলঙ্গ করে পেটাবেন। বাজারে ঘোরাবেন। আমি হুইপ সামশুল হককে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ না হলে আপনি তো সংসদ সদস্য হতে পারতেন না। মুক্তিযুদ্ধ না হলে আপনি তো পটিয়ায় থেকে ছড়ি ঘোরাতে পারতেন না। অথচ মুক্তিযোদ্ধাকেই আপনি অপমান করছেন। আমার মনে হয় আপনার সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক থাকতে পারে। নয়তো বার বার কেন আপনি মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাকে প্রতিপক্ষ করছেন?’

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ভেতরে অনেক অনুপ্রবেশকারী আছে। অনেক সংসদ সদস্য আছে যারা স্বাধীনতাবিরোধী। আমার দেখা মুক্তিযোদ্ধের সরাসরি বিরোধী লোক যারা আছে তাদের মধ্যে একজন হলেন হুইপ সামশুল হক। আপনাকে বার বার আমরা দেখেছি মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ করতে। আপনি বার বার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কঠাক্ষ করেছেন। এই স্পর্ধা আপনি কোথায় থেকে পাচ্ছেন?

সামশুল হকের সঠিক বিচার না হলে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আগামীতে আরও কঠিন কর্মসূচি দিবে। কারণ মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করা মানে পুরো মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা। আর মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা মানে হলো বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা। মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করা মানে বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। যিনি বাংলাদেশকে অস্বীকার করেন, সেই হুইপ সামশুল হকেরতো ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই।

তিনি আর্ব বলেন, আমি মনে করি হুইপকে দ্রুত সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা যায়। কারণ তিনিতো মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বাস করেন না। সামশুল হকের সংসদ সদস্য পদ বাতিল না হলে অবিলম্বে ঢাকা থেকে পটিয়ার উদ্দশ্যে আমরা লং মার্চ করবো। সামশুল হককে জানিয়ে রাখা দরকার মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে রাজাকারের ঠাঁই নাই। হুইপকে এটি জানানোর জন্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বাংলাদেশ জুড়ে যতগুলো কমিটি আছে সকলকে দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমাদের এই আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। নয়তো এরা লাগামহীনভাবে মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »