প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

কালকিনি (মাদারীপুর) থেকে মো. আতিকুর রহমান »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাদারীপুরের কালকিনি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নীরোধ বরণের বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম-২(এনএটিপি-২ প্রকল্প) সুফলভোগীদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত উপকরণগুলো এ প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের অযোগ্যসহ বেশির ভাগ উপকরণগুলো ব্যবহৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ উপকরণ ক্রয় করার সময় মানা হয়নি কোন নিয়ম কানুন। এমন কি এ প্রকল্পের কর্মীদের একাধিক বার ট্রেনিং করানোর কথা থাকলেও ট্রেনিং না করিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, কালকিনিতে এনএটিপি-২ প্রকল্প বাস্তবায়নে উপকারভোগী ছয়টি সমিতির জন্য দুধ বাজারজাতকরণে ছয়টি মিনি ট্রাক কেনার কথা থাকলেও সেখানে ছয়টি ইজিবাইক ক্রয় করা হয়। দুধ রাখার জন্য বড় বড় ক্যান ও গরুর ঘাষ কাটার জন্য নতুন মেশিন ক্রয় করার কথা থাকলেও সেখানে ছোট ছোট হাতলওয়ালা ক্যান ক্রয় করা হয়। উপকারভোগী ও সংশ্লিষ্ট ক্রয় কর্মকর্তাদের নিয়ে ক্রয় করার কথা থাকলেও তাদের নিয়ে ক্রয় না করে এবং কাগজে কলমে সবাইকে নিয়ে ক্রয় করেছেন বলে দেখানো হয়েছে।

এছাড়াও, ক্রয়কৃত ইজিবাইক ছয় জনকে দেবেন বলে গোপনে তাদের নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। যাদের থেকে সুবিধা নিতে পারবেন তাদের এ প্রকল্পে নাম দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি মাদারীপুরের কালকিনিতে এনএটিপি-২ প্রকল্পর সুফলভোগীদের মাঝে উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব অভিযোগ করেন প্রকল্পে কর্মরত কর্মচারীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ।

এ প্রকল্পের জন্য ক্রয়কৃত উপকরণগুলো প্রকল্পে তেমন কোন কাজে ব্যবহৃত হবে কি না এ নিয়ে খোদ মৎস ও প্রাণিসম্পদ সচিব প্রশ্ন তোলেন।

ডা. নীরোধ বরণকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ইজিবাইকে তো মানুষ চড়ে, এতে করে মনকে মন দুধ কিভাবে বাজারে নিয়ে যাওয়া হবে। এবং যে ক্যান ক্রয় করা হয়েছে তাতে কিভাবে এত দুধ রাখা যাবে এবং বাজারে নেওয়া যাবে। কাদের পরার্মশে এগুলো ক্রয় করা হয়েছে। এগুলো সরকারের এবং আপনাদের টাকা। এ টাকা তো জলে যেতে দেব না।

তবে এসব প্রশ্নে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নীরোধ বরণ জয় ধর কোন উত্তর দেননি।

প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ বলেন, আমার মনে হচ্ছে এ অটো আপনারা ক্রয় করেছেন ভাড়া দেওয়ার জন্য, প্রকল্পের উদ্দেশ্যে নয়।

প্রাণিসম্পদ সচিব ঘাস কাটা মেশিনের বিষয়ে এক কর্মকর্তাকে বলেন- এগুলোর কাজে যান এবং পরীক্ষা করে বলুন এগুলো নতুন না পুরাতন। উপকারভোগীদের প্রকল্প সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তারা কোন উত্তর দিতে পারেননি এবং ক্রয়কৃত কোন ক্যান ব্যবহার করে দেখাতে পারেননি।

পরক্ষণে সচিব রওনক মাহমুদ কালকিনি পৌর মেয়র এস এম হানফিকে এ উপকরণগুলো যেন কোন রকম ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত না হয় সে অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, আপনাদের যা কিছুই দেয়া হচ্ছে সবটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নীরোধ বরণ সাত বছর ধরে এখানে আছেন। তাকে ২০১৭ সালে স্টান্ড রিলিজ করা হলেও তিনি মধুখালি উপজেলায় না গিয়ে এখানেই থেকে গেছেন। এখান থেকে তিনি কোথাও যেতে চান না।

ডা. নীরোধ বরণ জয়ধরকে কেনা কাটা নিয়ে ও প্রকল্পে কত টাকার উপকরণ কেনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেন নি।

কালকিনি উপজেলা র্নিবাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে মন্ত্রণালয়ে জানাব।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »