পরকিয়া প্রেমিকের সহযোগীতায় স্বামীকে হত্যা

গাজীপুর থেকে মোফাজ্জল হোসেন »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরকিয়ার জেরে প্রেমিককে মারধোর করায় প্রেমিকের সহযোগীতার স্বামী সুমন মোল্লাকে (৩২) হত্যা করে মরদেহ (মাথা, হাত-পা ও দেহ) আলাদা করে গুম করে স্ত্রী ও তার পরকিয়া প্রেমিক। ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় স্বামী সুমনকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ঔষধ খাওয়ালে ঘুমিয়ে পরার পর পরকিয়া প্রেমিক তনয়কে সাথে নিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর তার লাশ বসত ঘরের ভেতর রেখে দেয়। পরদিন করাত দিয়ে সুমনের মরদেহ থেকে মাথা, দুই হাত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন করে চাপাতি দিয়ে পেট কেটে দেয়।

ভিকটিম সুমন মোল্লা বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার গোলা বরননী গ্রামের জাফর মোল্লার ছেলে। সে মহানগরীর কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন।

হত্যায় জড়িত সুমনের স্ত্রী দিনাজপুরের চিরির বন্দর উপজেলার নারায়নপুর এলাকার মৃত আশরাফ আলীর মেয়ে আরিফা (২৩) ও তার প্রেমিক ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার নরকোনা এলাকার আদিত্য সরকারের ছেলে তন্ময় সরকার (২৫) পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তনয় সরকারও সারদাগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন।

রোববার দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপ-কমিশনার জাকির হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রেজওয়ান আহমেদ, সহকারি কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকার, কাশিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব-এ খোদাসহ ।

গত ২১ এপ্রিল দুপুরে পুলিশ স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মহানগরের কাশিমপুর থানার সারদারগঞ্জের হাজী মার্কেট পুকুর পাড় এলাকার জালাল উদ্দিনের বাড়ির পাশের ময়লার ভাগাড় থেকে অজ্ঞাত অর্ধগলিত মাথা ও হাত-পা বিহীন দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ দেহটি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর অজ্ঞাত হিসেবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরদিন ২২ এপ্রিল কাশিমপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ওই থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুমনের স্ত্রী আরিফা ও তার প্রেমিক তনয় সরকারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, আরিফা ও তনয় সরকারের মধ্যে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সুমন স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমিক আসামি তনয় সরকারকে এাধিকবার মারধোর করেছিল। মারধোরের প্রতিশোধ নিতেই তারা সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরে ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় স্বামীকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে দেয় স্ত্রী আরিফা। সুমন ঘুমিয়ে পড়লে প্রেমিক তনয়কে ফোন করে বাসায় নিয়ে আসেন আরিফা। পরে তারা দু’জন মিলে বালিশ চাপা দিয়ে সুমনকে হত্যা করে লাশ বসত ঘরের ভেতর রেখে দেয়। পরদিন করাত দিয়ে সুমনের দেহ থেকে মাথা, দুই হাত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন করে এবং চাপাতি দিয়ে পেট কেটে ফেলে। পরে হাত-পা বিহীন দেহ কাঁথায় পেঁচিয়ে জামাল উদ্দিনের বাড়ির পাশে উন্মুক্ত সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেয়। দেহের অন্যান্য অংশ (মাথা, দুই হাত ও দুই পা) পলিথিনে মুড়িয়ে চক্রবর্তী (তেতুইবাড়ি) এলাকার মোজা তৈরির কারখানার পাশে থাকা ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেয়। তাদের দেয়া তথ্য মতে শনিবার (২৯ মে) সকালে তেতুইবাড়ি এলাকার মোজা তৈরির কারখানার পাশে থাকা ময়লার ভাগাড় থেকে পলিথিনে মোড়ানো সুমনের লাশের মাথা, দুই হাত ও দুই পা এবং রাতে সারদাগঞ্জের হাজীবাড়ি পুকুর পাড় ময়লার স্তুপ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও করাত উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তনয়ের ঘর থেকে নিহত সুমনের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »