৪ মাস ধরে গোডাউনে শীতের কম্বল ও ভিজিডি’র চাল!

স্বরুপকাঠী (পিরোজপুর) থেকে আসাদুজ্জামান »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অসহায় শীতার্থদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত কম্বল ও ভিজিডি’র চাল বিতরণ না করে রহস্যজনক কারণে চার মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে ফেলে রাখা হয়েছে।  ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১নং বলদিয়া ইউনিয়নে।

আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ওই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়। পরিষদের বিচারালয় কক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ বস্তা ভিজিডির চাল রক্ষিত আছে। পাট এবং প্লাস্টিকের বস্থায় সরকারি সিল করা এসব চালের কয়েকটি বস্তার চালে পোকা ধরে খাওয়ার অনুপযুক্ত করে ফেলেছে।

পরিষদের সচিব চাদ নারায়ন চক্রবর্তী এসব চাল কেন এখানে জমা পরে আছে তার সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। তবে ইউপি সদস্য আমিনুল বলেন, চেয়ারম্যান ও সচিব মিলে কিছু ধনী মানুষকে চাল পাওয়ার কার্ড করে দিয়েছেন। ওই সব কার্ডধারীরা সামাজিক লজ্জায় চাল নিতে না আসার কারণেই এ চাল এখানে পরে আছে। এসময় সচিবকে ভিজিডির চালের বরাদ্ধ পাওয়া কার্ডধারীর তালিকা দেখাতে বললে তিনি তা দেখাতে পারেন নি।

এদিকে সচিবের কক্ষের পার্শেই দেখা যায় ২ টা বস্তায় প্রায় শতাধিক কম্বল পরে আছে। সচিব জানায় এসব কম্বল জানুয়ারী মাসে বরাদ্ধ আসলেও চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের সমন্বহীনতার কারণে গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি।
তবে চেয়ারম্যান শাহিন আহম্মেদ কম্বলের বিষয়ে বলেন, ১১৫ পিচ কম্বল মেম্বরদের সহযোগিতা নিয়ে বিতরণ করার কথা আমি বললেও সচিব কেন বিতরণ করেনি তা আমি বলতে পারবোনা।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক মেম্বর বলেন, সচিব ও চেয়ারম্যানের যোগসাজশে আমাদের গরীব মানুষগুলো প্রতিনিয়ত কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছে। তারা বলেন, আমাদের কথার কোনো গুরুত্ব না দিয়ে এরা নিজেদের খামখেয়ালী মতো সরকারের দেয়া সাহায্য ও উপহার বিতরণ করে থাকে। ইউপি সদস্য শুকলাল বলেন, জেলেদের জন্য বরাদ্দের চাল ও গরীবদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ভিজিএফ এর ৪৫০ টাকা ঈদের পূর্বে বিতরণ করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান ও সচিব ঈদের পরে তা বিতরণ শুরু করেন যা এখনও চলমান রয়েছে।

পরিষদে রক্ষিত চালের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইন্দুরহাট খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বস্তার গায়ে লেখা ২০১৯ ও ২০২০ সনের তারিখ দেখে বলেন, এগুলো সবই জানুয়ারী ফেব্রুয়ারী মাসের ভিজিডির চাল। তবে বস্তাবিহীন পোকায় ধরা ও পচা চাল দেখে বলেন, এগুলা আরো পূর্বের হতে পারে কারণ সরকারের দেয়া চাল এত দ্রুত পোকায় ধরা বা নষ্ট হবেনা।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মানষ কুমার দাস বলেন, অসহায় মানুষের জন্য সরকারি বরাদ্দ যত দ্রুত সম্ভব সুবিধাভোগীদের হাতে দিতে হবে। এটা কোনো ভাবেই পরিষদে জমা করে রাখা যাবেনা।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »