রেশমে ফিরছে হারানো ঐতিহ্য

বিশেষ প্রতিবেদন »

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এক সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট ছিল রেশম চাষের অন্যতম উপজেলা। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে রেশমের ঐতিহ্য। স্থানীয় রেশম বিভাগের উদাসীনতা ও ন্যায্য মূল্য না পেয়ে চাষিরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল রেশম চাষ থেকে। ফলে ৩০০ বিঘা থেকে রেশম চাষ নেমে আসে প্রায় ১০০ বিঘায়।

কিন্তু বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাষ অব্যাহত রেখেছেন বেশ কয়েকজন কৃষক। তবে এবার রেশমের বাম্পার ফলন পেয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরেছে তাদের মাঝে।

ভোলাহাট রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবার প্রায় আড়াইশ বিঘা জমিতে রেশম চাষ হয়েছে।
ভোলাহাটের চরধরমপুর গ্রামের রেশম চাষি সমরুদ্দিন জানান, বিগত দিনে কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে ও কৃষকদের খোঁজ-খবর না নেয়ায় ফলন বিপর্যয় হতো। আগে ১০০ ডিমে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ কেজি ফলন পাওয়া যেত। তবে বর্তমান পদ্ধতি অবলম্বন করে এখন ফলন পাওয়া যাচ্ছে ১০০ ডিমে ৯০-৯৫ কেজি। আগে মণ প্রতি দাম মাত্র ৮-৯ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও এখন পাওয়া যাচ্ছ ১৪-১৫ হাজার টাকা করে।

যাদুনগর গ্রামের মন্টু আলী। তিনি প্রায় ৪৫ বছর ধরে রেশম চাষে জড়িত। তার সংসারে রয়েছে স্ত্রী, তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। যুবক বয়স থেকেই জড়িয়ে পড়েন রেশম চাষে।

মন্টু জানান, ১৯৭৫ সাল থেকে রেশম চাষ করে আসছেন। প্রথমে ভালো দাম পাওয়ায় প্রায় ৫ বিঘা জমিতে রেশম চাষ করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে রেশমের দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন। এরপরও ছাড়েননি এই পেশা। বর্তমানে রেশমের দাম ভালো পাওয়ায় এবার দুই বিঘা জমিতে রেশম চাষ করেছেন।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর ১৭০টি ডিম নিয়েছিলেন ভোলাহাট রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় থেকে। তা থেকে তিন মণ ২০ কেজি গুটি পেয়েছেন। গুটিগুলো প্রতি মণ ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন। সরকারিভাবে বিনামূল্যে ডিম, তুত গাছ, চাষের জন্য প্রতি পাঁচ কাঠায় তিন হাজার টাকা, ডালা, নেট ইত্যাদি পাওয়ায় রেশম থেকে আয় হচ্ছে ভালো।

কৃষকরা জানান, রেশম বোর্ডের কর্মকর্তারা রেশমের সুদিন ফিরিয়ে আনতে চাষিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। ফার্মিং পদ্ধতিতে রেশম চাষের পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারি বিভিন্ন প্রকার সুযোগ সুবিধা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাসহ জীবাণুমুক্ত ডিম সরবরাহ করেছেন। রেশম বোর্ডের আন্তরিকতায় এক বছরের চারটি বন্দ অগ্রণী, চৈয়তা, জৈষ্ঠী ও ভাদরি বন্দে রেশমের বাম্পার ফলন পেয়েছেন চাষিরা। ফলে এক বছরের চারটি বন্দ অগ্রণী, চৈয়তা, জৈষ্ঠি ও ভাদরি বন্দে রেশমের বাম্পার ফলন পেয়েছেন চাষিরা।

লোকসানের কারণে রেশম চাষ ছেড়ে দেয়া আসাদুল হাবিব জানান, আগ্রহী চাষিদের মধ্যে উন্নতমানের তুত চারা সরবরাহসহ আর্থিক সহায়তা দিলে রেশম চাষ পুরোপুরি আগের ঐতিহ্য ফিরে পাবে, বাড়বে রেশম চাষিদের পরিবারে সচ্ছলতা। রেশমের বাম্পার ফলনে চাষিদের মধ্যে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে তাই তারও রেশম চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

এ ব্যাপারে ভোলাহাট রেশম সম্প্রসারণ জোনাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত) কাজী মাসুদ রেজা জানান, জীবাণুমুক্ত ডিম সরবরাহ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিদর্শন করে পরামর্শ দেয়ার কারণে এ বছর রেশমের বাম্পার ফলন হয়েছে। শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে রেশমের আগের ঐতিহ্য। রেশম চাষিদের ঘরে ঘরে ফুটবে সুখের হাসি। আগের তুলনায় দ্বিগুণ চাষি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রেশম চাষির সংখ্যা রয়েছে ২৬৬ জন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »