সবুজের আবরণে ঢেকে গেছে তিস্তার চর

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) থেকে মো. ছামিউল ইসলাম »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

‘চরাঞ্চলের বাদাম, ভূট্টা, রসমঞ্জুরির ঘ্রান’-এই হচ্ছে গাইবান্ধার প্রাণ। তিস্তার ধূ-ধূ বালু চর চলতি মৌসুমে বাদামে ভরে গেছে।

বাদামসহ নানাবিধ ফসলে যেন তিস্তার চরাঞ্চলকে সবুজের আবরণে ঢেকে দিয়েছে। জমি হারানো পরিবারগুলো পুনরায় চরে ফিরে এসে চাষাবাদে ঝুঁকে পড়ছেন। দীর্ঘদিন পর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া জমির ফসল ঘরে তুলতে পেরে খুশি কৃষকরা।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত রাক্ষুসী তিস্তা নদী এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চলের হাজারও একর জমিতে এখন চাষাবাদ করা হচ্ছে নানাবিধ প্রজাতির ফসল।

বিশেষ করে ধান, তোষাপাট, ভুট্টা, আলু, বেগুন, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, টমেটো, বাদাম, তরমুজ, তামাক, কুমড়াসহ বিভিন্ন শাক সবজি চাষাবাদ করা হচ্ছে।

হরিপুর ইউনিয়নের মাদারীপাড়া গ্রামের একরামুল হক বলেন, এ বছর বাদামের আবাদ ও ফলন ভাল হয়েছে। চার বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে আট-নয় মণ বাদাম পাওয়া যায়। স্বল্প খরচে অধিক লাভের আশায় চরের কৃষকরা এখন বাদাম চাষে ঝুঁকছেন।

তিনি বলেন, বাদামের দামও এখন ভাল। চার বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি বাদাম ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে প্রতি মণ বাদামের দাম হচ্ছে ৪ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১৮০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি।

হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জিমি বলেন, চরাঞ্চলের জমিতে এখন ভাল ফলন হয়। সে কারণে চরের মানুষ এখন অনেক খুশি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ কে এম ফরিদুল হক বলেন, পলি জমে থাকার কারণে চরের জমি অনেক উর্বর। যার কারণে যেকোনো প্রকার ফসলের ফলন ভাল হয়। চরের কৃষকরা নিজে পরিজন নিয়ে জমিতে কাজ করে। সে কারণে তারা অনেক লাভবান হয়। চরের জমি বাদাম চাষের জন্য উপযোগী।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »