শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগে মালয়েশিয়ায় আটক ৪

অনলাইন ডেস্ক »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রেস্তোরায় কাজ করা ২২ শ্রমিককে নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয় চার নাগরিককে আটক করেছে মালয়েশিয়ার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত মধ্য রাতে ক্লাং এর তামান চী লিউং থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই ২২ শ্রমিককে রেস্তোরায় জোরপূর্বক কাজ করানো হতো। তাদেরকে ১২ ঘন্টা বা তার বেশি সময় কাজের বিনিময়ে মাত্র ১০ রিঙ্গিত দেয়া হতো। এমনকি তাদের খাবারের জন্যও বেতন থেকে টাকা কর্তন করা হতো। শর্ত সাপেক্ষে স্বজনদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার সুযোগ দেয়া হতো। কথা না শুনলে মারধরেরও অভিযোগ রয়েছে ওই মালিকদের বিরুদ্ধে। এসব শ্রমিকদের মধ্যে ১১ জন নারী ও ১১ জন পুরুষ। তারা ইন্দোনেশিয়া, ভারতের নাগরিক।

আটকের পর এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান পুলিশের বিশেষ শাখা বুকিত আমানের সিনিয়র এসিসট্যান্ট কমিশনার ফাদিল মারসুস।

তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে রেস্টুরেন্ট ও দুটি হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে শ্রমিকদের উদ্ধার করা হয়। অভিযানে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের একাধিক টিম অংশ নেয়। এ সময় তিন মালয়েশিয়ান নাগরিক ও ভবন মালিককে আটক করা হয়। যাদের বয়স ২৯ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তবে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ফাদিল মারসুস বলেন, এসব শ্রমিককে তারা জোরপূর্বক কাজ করাতো। প্রতিশ্রুতি মতো বেতন দিত না, হুমকি দেয়া হতো। এমনকি প্রতিশ্রুতি মতো থাকার জায়গার পরিবেশও ছিল না। অভিযানে ৪০টি পাসপোর্ট, দুটি মোবাইল ফোন, বিএমডব্লিউ গাড়ি এবং তিন হাজার ৮৫৮ রিঙ্গিত উদ্ধার করা হয়।

কঠোর ভাবে এ বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে এবং অভিবাসী আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

এদিকে, শ্রমিকের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করতে ই-ওয়েজ সিস্টেম চালুর কথা ভাবছে দেশটির সরকার। অনলাইনে পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে মালিক এবং এটি কঠোর ভাবে তদারকি করবে সরকার।

সম্প্রতি পাঁচ মাস বেতন না পেয়ে এক পাকিস্তানির আত্মহত্যার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে দেশটির মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়। এটিকে শুধু শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নয় বরং দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার উপায় হিসাবেও দেখছে সরকার।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »