শীর্ষ সন্ত্রাসীরা নজরদারিতে

অনলাইন ডেস্ক »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অনলাইন ডেস্ক:
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে কারাবন্দি ও পলাতক শীর্ষসন্ত্রাসীদের অপতৎপরতার ওপর নজরদারি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা। কারাবন্দি যেসব শীর্ষ সন্ত্রাসী সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে হুমকি হতে পারে, তাদের ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী কারাগার থেকে দূরের জেলার কারাগারে পাঠাতে সরকারের কাছে সুপারিশ করতে যাচ্ছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা।

এক্ষেত্রে রাজধানীর শীর্ষসন্ত্রাসীদের মধ্যে কে কোন কারাগারে বন্দি-সেসব তথ্য হালনাগাদ করে নতুন করে তালিকা তৈরির কাজও শুরু করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, ভোটানুষ্ঠানের কয়েকদিন আগে থেকেই শীর্ষসন্ত্রাসীরা প্রার্থীদের পক্ষ নিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। যেসব কাউন্সিলর প্রার্থীর সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কানেকশন রয়েছে, তাদের ওপরও চলছে গোয়েন্দা নজরদারি। তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানে যা যা করা দরকার, তা তা করা হচ্ছে ডিএমপির পক্ষ থেকে। সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দারা শীর্ষসন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ, খন্দকার তানভীরুল ইসলাম জয়, সোহেল রানা চৌধুরী ওরফে ফ্রিডম সোহেল, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, খোরশেদ আলম রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু, ইমাম হোসেন, প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, আব্দুল জব্বার মুন্না, আব্বাস ওরফে কিলার আব্বাস, আরমান, হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, শামীম আহম্মেদ ওরফে আগা শামীম, জাফর আহম্মেদ মানিক ওরফে মানিক, আমিন রসুল সাগর ওরফে টোকাই সাগর, সানজিদুল ইসলাম ইমন, জিসান ওরফে মন্টি, মো. লিটন আকন্দ ওরফে লেদার লিটন এবং ওমর ফারুক কচি ওরফে আইজি গেটের কচি, কামাল পাশা, সুইডেন আসলাম, হাবিবুর রহমান তাজ ওরফে নাইমুল ইসলাম তাজ, সেলিম ওরফে লম্বু সেলিম, কাইল্যা পলাশ ও ইদুল গ্রুপের ইদুলের নাম হালনাগাদ করছে। এসব শীর্ষসন্ত্রাসীর মধ্যে কেউ পালিয়ে বিদেশে গিয়ে কেউবা কারান্তরীণ থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি করে থাকে। তাদের মধ্যে কিলার আব্বাস, আরমান, সুইডেন আসলাম, ইদুল, হাবিবুর রহমান তাজ, কাইল্যা পলাশ, সানজিদুল ইসলাম ইমন, লম্বু সেলিম, পিচ্চি হেলাল, কামাল পাশা গাজীপুর কাশিমপুর হাইসিকিউরিটিসহ বিভিন্ন কারাগারে অন্তরীণ।

ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় বিদেশে গা ঢাকা অবস্থায় থেকেও দেশে অপরাধ করা সহজ। একসময় বিদেশ থেকে টেলিফোন ছাড়া শীর্ষসন্ত্রাসীরা তাদের সহযোগীদের সঙ্গে কথা বলতে পারত না। এখন ইন্টারনেটের সাপোর্টে বিভিন্ন রকম অ্যাপস থেকে খুব সহজেই ভিডিও কলে পর্যন্ত কথা বলা যায়। শীর্ষসন্ত্রাসীরা বিদেশে পলাতক থেকে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, স্কাইপেসহ অন্যান্য অ্যাপসের মাধ্যমে ঢাকায় অবস্থানরত সহযোগীদের দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে এভাবে শীর্ষসন্ত্রাসীরা সহযোগীদের নির্দেশনা দিতে পারে বলে শঙ্কা থেকে যায়। এ কারণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অতীতে, দেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে জেলে বন্দি বা বিদেশে পলাতক শীর্ষসন্ত্রাসীরা। এসব বিষয় মাথায় রেখে ২০১৫ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে কারাবন্দি শীর্ষসন্ত্রাসীদের কিছুদিনের জন্য ঢাকা থেকে অনেক দূরের কারাগারগুলোতে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। এবারও ঢাকার আসন্ন দুই সিটি নির্বাচনে গোয়েন্দারা একই ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে সরকারের কাছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »