শাহজাদপুরে হাটের ইজারাদার ও ব্যবসায়ীদের মুখোমুখি অবস্থান

অনলাইন ডেস্ক »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জামিরতা হাটের ইজারাদারদের নিকট ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক জন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

চাঁদা না দেওয়ায় প্রভাবশালী মহলটি খাজনা আদায় বন্ধ করে দিয়েছে বলে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছেন ইজারাদার আবু হানিফ। এই বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন করেছে জামিরতা বাজারের কিছু ব্যবসায়ী।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ ইজারাদারদের সাথে জামিরতা হাটের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যবসায়ীরা হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ এনে মিছিল ও মানববন্ধন করেন।

একই দিন ইজারাদার আবু হানিফ বেশ কয়েকজন যুবকের নাম উল্লেখ করে চাঁদা দাবি ও খাজনা উত্তোলনে বাধা প্রদান বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন।

হাটের ইজারাদার আবু হানিফ জানান, আমরা চলতি ২০২১ সালে সরকারের নিকট থেকে জামিরতা হাট নিলামে নিয়ে খাজনা আদায় করে আসছিলাম।

গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে জামিরতা গ্রামের হারেজ আলী ফকিরের ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩২) মতিন সরকারের ছেলে জাহিদুল (২৭) আমির হামজার ছেলে আইয়ূব আলী (৪৫) শফি সরদারের ছেলে আউয়াল মিয়াসহ তাদের লোকজন আমাকে জামিরতা কলেজ মাঠে ডেকে নিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে।

চাঁদা না দিলে হাটে খাজনা আদায় করতে দিবেনা মর্মে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে। সেই সাথে তাদের লোকজন নিয়ে জামিরতা হাটে মহড়া, মিছিল, মানববন্ধন করেছে।

ইতিপূর্বেও তারা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বেশ কয়েকটি অবৈধ দোকান ঘর নির্মাণ করে খাজনা প্রদান না করে ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি উপজলা নির্বাহী অফিসার ও শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

এই বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামের সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

পোরজনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইজারাদার হানিফের কাছে চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। কয়েকজন হাটের খাজনা উত্তোলনের কাজে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে বাধা প্রদান করেছে।

উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২২ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভুমি), উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে এসে উভয়পক্ষ ও জনগনের সাথে মতবিনিময় শেষে জামিরতা বনিক সমিতির বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়েছে। তারা জামিরতা হাটের খাজনা নির্ধারণের লক্ষ্যে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

এই বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো: মাসুদ হোসেন জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে খাঁজনা নির্ধারণে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান করে ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে সংযুক্ত করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »