রায়হান হত্যায় ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চার্জশিট

অনলাইন ডেস্ক »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেটে আলোচিত রায়হান উদ্দিন (৩০) হত্যা মামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআিই’র পরিদর্শক আওলাদ হোসেন।

অভিযুক্তরা হলেন, সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন, কথিত সাংবাদিক পলাতক আব্দুল আল নোমান, বন্দরবাজার ফাঁড়ির সাবেক টুআইসি এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেকে এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাস। কথিত এই সাংবাদিক ছাড়া বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।

এরপর বেলা ১২টায় অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয় নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদ উজ জামান।

তিনি বলেন, আমরা এক হাজার ৯৬২ পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করেছি। এতে সাক্ষী রাখা হয়েছে ৬৯ জনকে। এর মধ্যে ১০ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সাত জন পুলিশ আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন।

চার্জশিট দিতে গিয়ে বিলম্বের কারণ ব্যাখায় বলেন, আমরা সাক্ষীদের জবানবন্দি নিয়েছি, তা পর্যালোচনা করেছি, সিভিআর পর্যালোচনা করেছি। রায়হানকে নির্যাতনে এসআই আকবর হোসেন, এএসআই আশেকে এলাহী, হারুনুর অর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাসের সংশ্লিষ্টতা ও ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গায়েবে এসআই হাসান উদ্দিন ও কোম্পানীগঞ্জের কথিত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে।

এছাড়া তদন্তভার পাওয়ার পর রায়হান ও এসআই আকবরের মোবাইল ফোনের সিভিআর পর্যবেক্ষণ করা হয়। রায়হান গ্রেফতারের পর টিম বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে আসা পূর্ব বিরোধ থেকে নয়। ইয়াবা ব্যবসার সংশ্লিষ্টতায় তাকে ফাঁড়িতে আনার পর জিজ্ঞাসাবাদকালে মারধরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতাল নেওয়ার পর রায়হান মারা যান।

আর ঘটনার পর সাইদুল শেখের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে কারণ সাইদুল সঙ্গীয় রনি শেখসহ ওই রাতে কাস্টঘর এলাকায় যান ইয়াবা কিনতে। ইয়াবা নিয়ে আসে এক শিশু। কিন্তু নকল ইয়াবা দেওয়ায় টাকা ফেরত চান। তখন শিশুটি যে লোকগুলোকে ডেকে আনে, তাদের একজন রায়হানও ছিল।

ঘটনার রাতে ভিকটিম রায়হান কেন ওখানে ছিলেন, এর সূত্র ধরে তদন্তে পুলিশ দেখতে পায়, ২০০৮ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় রায়হান আসামি ছিলেন পরবর্তীতে খালাস পান। তার বিরুদ্ধে আরেকটি মাদক মামলাও আদালতে বিচারাধীন পাওয়া যায়।

এসপি খালেদ উজ জামান বলেন, মামলায় অভিযোগপত্র পিবিআই’র ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার পুরোটা দেখেছেন। এছাড়া মামলায় ৩০২ ধারাসহ মৃত্যু নিবারণ আইনে মৃত্যুদণ্ড কমপক্ষে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সিলেট আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, বহুল আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র পিবিআই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। করোনা ভাইরাসের কারণে আদালতের কার্যক্রম ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে চলার কারণে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হচ্ছে না।

গত বছরের ১১ অক্টোবর রাতে রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতন করে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে রায়হান মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তন্নী পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে মামলা দায়ের করেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »