যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম

তালতলী (বরগুনা) বেল্লাল হোসেন »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বরগুনার তালতলীতে যৌতুকের দাবিতে সুমাইয়া বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী করিম খন্দকারের (৪০) বিরুদ্ধে।

উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের গাব্বারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গত কাল সুমাইয়ার ভাই আবু হানিফ বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে তালতলী থানায় মামলা করেন। রাতে অভিযুক্ত স্বামী করিম খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সুমাইয়ার পরিবার সূত্রে জানা গেছে , উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের গাব্বারিয়া গ্রামের মজিদ খন্দকারের ছেলে মোঃকরিম খন্দকার এর সাথে প্রায় ১১ বছর আগে কড়াইবাড়ীয়া ইউনিয়নের ছিদ্দিক হাওলাদের মেয়ে সুমাইয়া বেগমের সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়। বর্তমানে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বিবাহের পর থেকেই করিম তার স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই মারধর করতো।

বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা ও প্রতিবেশীরা সালিশ মীমাংসা করে করিমকে আর্থিক সহযোগিতা করেছে।

কিন্তু করিমের চাই মোটা অংকের যৌতুক ফের সুমাইয়াকে মারধোর করে।

স্বামীর এমন নিষ্ঠুর অত্যাচার সইতে না পেরে কয়েক মাস আগে সুমাইয়া তার বাপের বাড়ি চলে আসে।

সুমাইয়ার পরিবার পুলিশকে বিষয়টা অবহিত করতে চাইলে বগীরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস তালুকদার সালিশ মীমাংসার কথা বলে মেয়েটিকে তার বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যায়।

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘুমের ঘরে পাষণ্ড স্বামী করিম তার স্ত্রীকে দেশীয় দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে সুমাইয়ার শরীরে প্রায় ৩০ টির বেশি কোপ দিয়ে গুরুতর অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

আহত সুমাইয়ার বাপের বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে জরুরী চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা নেয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে আহত সুমাইয়ার বড় ভাই আবু হানিফ বলেন, বিভিন্ন সময় আমার বোনকে অত্যাচার করে যৌতুক নিয়েছে করিম।
গত কয়েক মাস আগে করিম ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেছে কিন্তু আমার বোন বলেছে টাকা কোথায় পাবো এ কথা বলার পর আমার বোনকে আবার মারধর করে। মারধরের কষ্ট সইতে না পেরে বাপের বাড়ি চলে আসলে কয়েক দিন আগে বগীরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস তালুকদার তিনি অভিভাবক হয়ে আমার বোনকে তার শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যান। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার বোনকে খুন করতে চেয়েছিল করিম। আমার বোন এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

তালতলী থানার (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, মেয়ের আপন ভাই হানিফ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছে, অভিযান চালিয়ে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »