মৃত্যুর আগে স্ত্রীর কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও পাননি স্বামী

বরগুনা থেকে মো. মাহাবুব আলম »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নয় মাস পর প্রেমিকের হারিয়ে যাওয়া ফোন কলের রেকর্ড থেকে বেরিয়ে আসে শিক্ষক নাসির উদ্দিনের চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য। পরকীয়ার কারণেই স্বামীকে হত্যা করেছেন স্ত্রী ফাতেমা আক্তার মিতু।

ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া গ্রামে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফাতেমা আক্তার মিতু (২৪) ও তার প্রেমিক রাজু মিয়াকে (২০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহত নাসির উদ্দিন সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের মো. গয়েজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি গোলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত বছরের ২৩ মে রাত ৮টায় স্বামীকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করেন স্ত্রী ফাতেমা আক্তার মিতু। রাত ১১টার পর রাজুকে ফোন করে তার বাসায় আসতে বলে মিতু। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বাসায় এসে হাত-পা বেঁধে পায়ের উপরে উঠে বসে রাজু। স্ত্রী মিতু স্বামীর বুকের ওপর উঠে কম্বল দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করলে প্রাণভিক্ষা চান শিক্ষক নাসির। টানা দুই ঘণ্টা ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে যায় নাসিরের দেহ।

মিতু সবাইকে জানায়, তার স্বামী অতিরিক্ত কাঁঠাল খেলে রাতে ঘুমের মধ্যে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। পর দিন সকালে তড়িঘড়ি করে নাসিরকে দাফন করা হয়।

এর আগেও বেশ কয়েকবার ওই স্কুল শিক্ষককে হত্যার চেষ্টা করে তার স্ত্রী মিতু। ঈদ-উল-ফিতরের আগের দিন নাসিরের মৃত্যু হওয়ায় স্বজনরা এ নিয়ে তেমন চিন্তিত ছিলেন না। স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে সবাই মেনে নেয়। এ ঘটনার ৯ মাস পর মিতুর পরকীয়া প্রেমিক রাজুর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনে নাসিরকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার কথোপকথনের রেকর্ডিং পান নাসিরের স্বজনরা।

পরে থানায় অভিযোগ করলে নাসিরের স্ত্রী মিতু ও পরকীয়া প্রেমিক রাজুকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বরগুনা থানার ওসি কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, নাসির হত্যার মূল পরিকল্পনা ছিল স্ত্রী মিতু। আমরা মিতু ও রাজুকে গ্রেফতার করেছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক স্বরজিৎ সরকার তদন্ত করবেন।

বরগুনার পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর ২৩ মে ঈদ-উল-ফিতরের আগের রাতে নাসিরের মৃত্যুর খবর পান তার স্বজনরা। পরবর্তীতে নাসিরের স্বাভাবিক মৃত্যু জেনে তাকে স্বাভাবিক নিয়মেই দাফন করা হয়। ঘটনার ৯ মাস ১৯ দিন পর তার স্বজনরা জানতে পারেন- নাসিরের স্ত্রী মিতু ও তার পরকীয়া প্রেমিক রাজু নাসিরকে পরিকল্পিত ভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে কম্বল চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »