মুক্তিপণ না পেয়ে স্কুলছাত্রকে হত্যা

গাজীপুর থেকে মোফাজ্জল হোসেন »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গাজীপুরের টঙ্গীর আন্দারুল খাল থেকে উদ্ধার করা মরদেহ স্কুলছাত্র ইসমাঈল সরকারের (১৩)। মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে হত্যা করে ঘাতক আতাউল হোসেন (৩৫)।

সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ঘাতক।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম এ তথ্য জানান।

এর আগে রোববার আতাউলকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আতাউল গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা।

নিহত ইসমাঈল সরকার (১৩) সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানঘরা গ্রামের নূর নবী সরকারের ছেলে। সে বাবা-মা’র সঙ্গে রাজধানীর তুরাগ থানার কামারপাড়া এলাকার স্থানীয় বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

ওসি শাহ আলম জানান, আসামি আতাউল তার জবানবন্দিতে জানায়, সে ও তার দুই সহযোগী পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে ইসমাঈল সরকারকে অপহরণ করে। মুক্তিপণ না পেয়ে তারা পরস্পরের যোগসাজশে ইসমাঈলকে হত্যা করে লাশ আন্দারুল খালে ফেলে দেয়।

তিনি জানান, গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় তুরাগ নদের শাখা আন্দারুল খালের পানিতে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরনে নীল রঙের জিন্স প্যান্ট এবং নীল রঙের টি শার্ট ছিল। তার দুই চোখ জখমপ্রাপ্ত এবং ডান চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। লাশ পানিতে থাকায় শরীরের বেশির ভাগ জায়গা ফুলে পঁচে বিকৃত হয়ে যায়। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য গাজীপুর মহানগরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ভিকটিমের ছবিসহ বেতার বার্তা পাঠায়। একপর্যায়ে ডিএমপির তুরাগ থানায় গত ১৮ মার্চ দায়ের করা নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে ভিকটিমের পরিচয় মেলে। পরে পুলিশ ভিকটিমের বাবা-মা’র কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি আতাউল হোসেনকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আতাউল এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। পরে তিনি আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »