মির্জাগঞ্জে পায়ারা নদীর পানিতে বাড়ছে লবনাক্ততা

মির্জাগঞ্জ থেকে সুজন সিকদার »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত পায়রা নদী এবং পশ্চিম দিকে বয়ে গেছে শ্রীমন্ত নদী পানির ক্রমেই বাড়ছে লবণাক্ততা। সাম্প্রতিক সময়ে সেই বৃদ্ধির হার এতটাই বেশি যে মিষ্টি পানির নদী হিসেবে পরিচিত পায়রা পানি এটাই লবন কামড় বসিয়ে দেয়। মির্জাগঞ্জ উপজেলার বহু নদীতে, খালে, বিলে ঢুকেছে সাগরের লেনা পানি।

উপজেলায় সুপেয় পানির অন্যতম উৎস হচ্ছে বৃষ্টি ও গভীর নলকূপ । চলতি বছরের মার্চ মাসে মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বৃষ্টির দেখা মেলেনি। গত বছরের এপ্রিল মাসে কিছু বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশ, লবণ পানির প্রভাবের কারণে উপজেলার প্রত্যয়ান্ত গ্রামের হাজার হাজার মানুষ গোসল, রান্না ও খাবার পানির সংকটে রয়েছেন।
কোনো কোনো গ্রামে ৪-৫ টি পুকুর আছে। কিন্তু অধিকাংশ গ্রামে বা বাড়িতে পুকুরও নেই। আর বৃষ্টি না থাকায় বর্তমানে এ সকল পুকুরের পানিও নষ্ট হয়ে গেছে। আর বিশুদ্ধ পানির অভাবে পানিবাহিত নানা রোগ যেমন ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড, পেটের পীড়া, কৃমির সংক্রমণ, চর্মরোগ প্রভৃতি দেখা দিছে মানুষের মাঝে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলার গোলখালী গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা বর্তমানে পানির অভাবের মধ্যে বসবাস করছি। আমাদের এই গ্রাম, গোলখালী ও চত্রা ইতিমধ্যে পায়রা নদীর সাথে সম্পৃক্ত আছে এজন্য চিন্তিত কৃষকরা । গভীর নলকূপও আজ নদীতে বিলিন। বর্তমানে নদীর পানি লবনাক্ত থাকায় রান্না, গোসল ও খাবার পানি সংগ্রহ করা আমাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এবং ৩ নং আমড়াগাছি ইউনিয়ন মোঃ মোতাহার হোসেন বলেন , আমাদের বাড়ির সামনে কাশিনাথ খাল রয়েছে সে খালের পানি লবন ও আমাদের বাড়ি বাড়ির নলকুপ পানি কিছুটা লবনক্ত হয়ে উঠছে, কারণে কৃষি জমি হুমকীর মুখে পড়েছে। এভাবে লবণ পানি বৃদ্ধি ও লবণক্ততার পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট ঘন ঘন খরার ফলে বর্তমানে চাষাবাদ করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে অথচ গোসল, রান্না ও খাবারে পানির জন্য আমাদের যুদ্ধ করতে হয়। বাধ্য হয়ে কিছু পরিবার পুকুরের পানিতে ফিটকিরি প্রয়োগ করে ব্যবহারযোগ্য করে নেয়।

পায়রা নদী সংলগ্ন চিংগড়িয়া, পিপড়াখালী, সুন্দা, ভিকাখালী এলাকার চা দোকানীরা বলেন, নদীর পানি দিয়ে কিছুই করা যাচ্ছে না। মানে পানি ব্যবহারই করা যায় না। এই পানি দিয়ে আগে চা বানাতাম কোনো সমস্যা ছিলো না। এখন কাস্টমাররা চা তে স্বাদ পায় না। বলে লবণ লবণ লাগে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন আর পরিবেশগত নানা সমসয়ায় উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে। নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নামছে। সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় নোনা পানি নদীর ওপর দিকে উঠে আসছে। তাই সাগরের কাছের নদীগুলোর পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা আগে থেকে অনেক বেড়েছে এবং বেশি সময় দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। তবে বৃষ্টির মৌসুম এলে এই লবণাক্ততা কমবে বলেও জানান তারা।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »