মশার উপদ্রব বেড়েছে খুলনায়

খুলনা থেকে হারুন-অর রশিদ »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

খুলনা মহানগরীতে মশার উপদ্রব প্রকট আকার ধারণ করেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।

কিন্তু মশা নিধনে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাইয়নি খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে (কেসিসি)। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে নগরবাসীর মাঝে।

দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে সংস্কারের জন্য ড্রেনের ঢাকনা সরিয়ে ফেলা এবং ড্রেনের বর্জ্য বিক্ষিপ্ত ভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে মশার প্রজনন বেড়ে গেছে বলে মনে করছে নগরবাসী। ফলে দিনে রাতে মশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলছে না কারোর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীত মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকে নগরীতে মশার উপদ্রব বাড়তে থাকে। এক সপ্তাহ ধরে মশার উপদ্রব অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এদিকে, সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ মশার প্রজনন মৌসুম। মশা এ সময় দ্রুত বংশ বিস্তার করে। যে কারণে এ সময় মশার উপদ্রব বাড়ে।

নগরবাসীর অভিযোগ, সঠিক সময়ে মশার প্রজনন রোধ করতে না পারার মাশুল দিতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

নগরীর ইকবাল নগরের বাসিন্দা আওয়াল শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে কয়েল, স্প্রে কিনতে খরচ বেড়ে গেছে। তারপরও মশা থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। দিন ও রাতে সমান তালে মশার উপদ্রব সহ্য করতে হচ্ছে।

রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী ছন্দা বেগম বলেন, ‘মশার কারণে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। ছেলের শ্বাসকষ্ট রয়েছে। এ কারণে মশার কয়েল জ্বালাতে পারি না।’

নগরীর টুটপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘রাতে খাওয়ার সময়ও মশার কয়েল জ্বালাতে হয়। তখন মশা মরে খাবারের মধ্যে পড়ে। মশা নিয়ে খুবই বিপাকে আছি।’

খুলনার একটি সামাজিক সংগঠনের নেতা দীন মোহাম্মাদ বলেন, ‘মশার উপদ্রব ঠেকাতে সিটি কর্পোরেশন থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। মাঝে মধ্যে দুই একটি স্থানে ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করা হলেও মশা দমন করতে পারছে না।’

নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন গ্লোবাল খুলনার আহ্বায়ক শাহ মামুনুর রহমান তুহিন বলেন, ‘একদিকে নগর উন্নয়নের নামে ড্রেনের নোংরা আবর্জনা বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে মশার উপদ্রব, দুইয়ে মিলে নগরবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। মাঝে মধ্যে কেসিসি থেকে খোলা ড্রেনগুলোতে ওষুধ ছিটাতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেটা লোক দেখানো কি না বুঝতে পারিনা। কারণ ওই ওষুধে মশা দমন হচ্ছে না।’

তবে মশা নিধন কার্যক্রম থেমে নেই বলে দাবি কেসিসি কর্তৃপক্ষের।

কেসিসির কনজারভেন্সি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, ‘মশার উপদ্রব কমাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে আমাদের কর্মীরা ওষুধ ছিটানো শুরু করেছে।’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »