ভয়াবহ অক্সিজেন সংকটে দেশ

অনলাইন ডেস্ক »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশে করোনা পরিস্থিতির বেশ অবনতি ঘটেছে। একইসঙ্গে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে অক্সিজেনের চাহিদা। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে দেশ ভয়াবহ অক্সিজেন সংকটের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনই প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সুবিধা দিতে না পারায় অনেক মুমূর্ষু রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।

জানা গেছে, গতকাল রোববার (২৫ এপ্রিল) একটি হাসপাতালে একদিনে অক্সিজেনের অভাবে ৫ জন মারা গেছেন। ওই হাসপাতালে ১০ জন রোগীর অক্সিজেনের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন সরবরাহ করতে পেরেছে পাঁচজনকে। এই অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে।

এদিকে আজ সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। দেশের মোট অক্সিজেন চাহিদার বড় একটি অংশ আসে ভারত থেকে। এই সরবরাহও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন হাসপাতালে এরই মধ্যে সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট আরো বেড়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর করোনা সংক্রমণ অনেক বেশি মাত্রায় বেড়েছে। এছাড়া করোনার নতুন ধরন (স্ট্রেইন) অতি মাত্রায় সংক্রামক। ফলে রোগীদের ফুসফুস মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকেরই অল্প সময়ের মধ্যে তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে বেশি সংখ্যক রোগীকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। আর গুরুতর অসুস্থদের জীবন বাঁচাতে অক্সিজেন সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা জরুরি। বেশিরভাগ রোগীই তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন। তাদের হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার মাধ্যমে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় করোনা রোগীদের চিকিৎসায় দেশের হাসপাতালগুলোতে এখন দৈনিক অক্সিজেনের চাহিদা দাঁড়িয়েছে ১৮০ টন। এর মধ্যে বহুজাতিক অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘লিন্ডে বাংলাদেশ’ উৎপাদন ও সরবরাহ করছে ৯০ টন। স্পেক্ট্রা নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান দৈনিক গড়ে সরবরাহ করছে ২৪ দশমিক ৫ মেট্রিক টন। তারপরও ঘাটতি থাকছে দৈনিক প্রায় ৬৫ টন।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতিতে ভারতে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশটি বাংলাদেশে লিন্ডের কাছে অক্সিজেন রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় সংক্রমণ আরও বাড়তে থাকলে বাংলাদেশেই ভারতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »