ভোগান্তি নিয়েই ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা

অনলাইন ডেস্ক »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে ফেরি, শুরু হয়েছে যানবাহনের পারাপার। তারপরও কমেনি ভিড়।

দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্প উপায় রাজধানী ছাড়ছে ঘরমুখো মানুষ। মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার তো বটেই, ট্রাক-পিকআপে করেও ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে।

মঙ্গলবার (১১ মে) সকাল থেকেই রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার জন্য সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে পথে পথে দুর্ভোগ সয়েছেন যাত্রীরা। সেসঙ্গে বিকেলের বৃষ্টিতেও ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন লাখো মানুষ। সরকারি নির্দেশনা মেনে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পিকআপ, ট্রাকে করে রাজধানী ছাড়ছেন তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে সায়েদাকাদ-যাত্রাবাড়ী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাস টার্মিনাল খাঁ খাঁ করলেও শতশত মানুষ ভিড় জমিয়েছেন টার্মিনালের সামনের সড়কে। তারা সেখান থেকে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পিকআপ, ট্রাকে করে রাজধানী ছাড়ছেন। এর পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে রাজধানী ছাড়তে দেখা গেছে অনেকেই।

বিগত কয়েক দিনের মতো মঙ্গলবারও শত শত প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশা করে পাটুরিয়া ঘাট ও বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে রাজধানী ছাড়ছেন অনেকেই।

সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে দেখা যায় প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের জন্য অপেক্ষায় করছেন যাত্রীরা। সেখানে কথা হয়, ফেনীগামী যাত্রী খোরশেদ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়ায় ফেনী যাচ্ছি।

‌‘লকডাউনে’ গ্রামে ঈদ করতে গিয়ে বাড়তি খরচে জর্জরিত নিম্নআয়ের মানুষেরা। সহকর্মীদের সঙ্গে পিকআপভ্যানে করে লক্ষ্মীপুরে যাচ্ছেন দিনমজুর লিটন। তিনি বলেন, পিকআপে যাচ্ছি তাও ভাড়া ৭০০ টাকা।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও কেন বাড়তি টাকায় বাড়ি যাচ্ছেন জানতে চাইলে লিটন বলেন, আমাদের জীবনে আনন্দ বলতে রোজার ঈদ। কয়েক মাস ধরে দিনমজুরি করে বাড়িতে টাকা পাঠিয়েছি। যা দিয়ে পরিবারের সবার জামা-কাপড় কেনা হয়েছে। তাই ঈদের দিন ওদের সঙ্গেই কাটাতে চাই।

এদিকে, মঙ্গলবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে টিপটিপ বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই ঘরে ফিরছেন তারা।

ঢাকা থেকে মাদারীপুরের শিবচরে যাওয়া বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে মোবাইলে আলাপ করলে তারা জানান, ফেরির বেশিরভাগ যাত্রীদের যানবাহন রাখার ডেকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। একটি ফেরিতে কয়েক হাজার যাত্রী। বিকেলে বৃষ্টি শুরু হলে ভিজতে হয়েছে যাত্রীদের।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনসহ (বিআইডব্লিউটিসি) ঘাট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের ঘরে ফেরার ঢল নামে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতেই যাত্রী ও যানবাহনে রয়েছে পরিপূর্ণ। তবে সব ফেরি চালু থাকায় ফেরিতে যাত্রীদের গাদাগাদি কম রয়েছে। যাত্রী চাপ সামাল দিতে বাংলাবাজার ঘাট থেকে খালি ফেরি শিমুলিয়া ঘাটে পাঠানো হচ্ছে। এদিকে বিকেলে বৃষ্টি শুরু হলে ঘাট এলাকয় বিপাকে পড়তে হয় যাত্রীদের। বৃষ্টিতে ভিজেই গন্তব্যের গাড়িতে উঠতে দেখা গেছে হাজার হাজার যাত্রীকে।

অন্যদিকে, ঢাকা থেকে বিভিন্ন উপায়ে অতিরিক্ত ভাড়া ব্যয় করে বাংলাবাজার ঘাটে এসে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা পড়েন আরো ভোগান্তিতে। গণপরিবহন না থাকায় বাংলাবাজার ঘাট থেকে থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাসে তিনগুণ বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে।

বরিশালগামী বরিউল হাসান জানান, আগে বাংলাবাজার ঘাট থেকে বরিশাল যেতে ভাড়া লাগতো মাত্র ৫০০ টাকা। এখন মাইক্রোবাসে ভাড়া নেয় ১২০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। এতো টাকা দিয়ে কীভাবে যাবো।

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঈদে ঘরে ফেরা দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের চাপ রয়েছে। আমাদের সব ফেরি চলাচল করছে। বাংলাবাজার ঘাটে তেমন চাপ নেই। তাই যাত্রী চাপ সামাল দিতে ফেরিগুলো বাংলাবাজার ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন নামিয়ে খালি ফেরি শিমুলীয়া ঘাটে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে যাত্রীদের। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ভিজতে হয়েছে ঘরমুখো যাত্রীদের।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, দিনের বেলায় পচনশীল পণ্যবোঝাই ট্রাক ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়িগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছোট ফেরিগুলো দিয়ে পার করা হচ্ছে। জরুরি সেবার গাড়িগুলো ফেরিতে ওঠার আগেই ঈদের ঘরমুখো যাত্রীরা উঠে পড়েন যে কারণেই কিছু যাত্রীরা ওই সব গাড়ির সঙ্গে পার হচ্ছেন।

এদিকে, এ ঈদযাত্রার বিষয়ে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ঈদে যেভাবে মানুষ বাড়ি ফিরছে তাতে দেশে করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আমরা নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই ডেকে আনছি। করোনা পৃথিবী থেকে কবে যাবে তা কেউ বলতে পারে না। ফলে যতদিন করোনা থাকবে ততদিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »