বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি কত বছর বেঁচে ছিলেন?

বিশ্বকণ্ঠ ডেস্ক »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সব মানুষই দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে চায়। এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যাওয়ার কথা হয়তো কেউ কল্পনা করতেও পারেন না! তবে সবার জন্য মৃত্যু অনিবার্য।

বিশ্বের একেক দেশের গড় আয়ুতে ভিন্নতা আছে। কেউ বাঁচে ৫০ বছর, আবার কেউ ১০০ বছর। তবে ১০০ বছরের বেশি জীবন লাভ করা ব্যক্তির সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন। তাই বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানার কৌতূহল সবার মনেই কম বেশি থাকে।

জানেন কি, বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণতম ব্যক্তি কত বছর বেঁচে ছিলেন? ইতিহাস বলছে, ১৫২ বছর। তার নাম টমাস ‘ওল্ড টম’ পার। তার জন্ম হয় ১৪৮২ সালে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৬৩৫ সালে। টমাস একজন ইংরেজ ছিলেন।

ইংল্যান্ডের শ্রিউসবারি জাদুঘর এবং আর্ট গ্যালারিতে টমাসের একটি প্রতিকৃতি আজও ঝুলছে। আর সেখানকার শিলালিপিতেই লেখা আছে, ‘টমাস ১৫২ বছর ৯ মাস বয়সে মারা যান। এতো বছর বাঁচার কথা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেন না। তবে কীভাবে টমাস ১৫২ বছর বেঁচে ছিলেন? এ প্রশ্ন নিশ্চয়ই আপনাকেও ভাবাচ্ছে!

চিকিৎসক উইলিয়াম হার্ভে লিখেছেন, টমাসের দীর্ঘায়ু লাভের কারণ হতে পারে তার খাদ্যাভ্যাস। পনির, দুধ, শক্ত রুটি, পানীয় ছিল টমাসের ডায়েটে। তিনি সমৃদ্ধশালী কোন ব্যক্তি ছিলেন না। খুবই হতদরিদ্র একজন মানুষ ছিলেন। খামারে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। প্রথম জীবনে টমাসের দুটি কন্যা সন্তান জন্মেছিল; তবে তারা শৈশবেই মারা যায়।

প্রথম স্ত্রীর জন টেইলরের মৃত্যুর পর ১০০ বছরেরও বেশি বয়সে টমাস প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই বয়সে তিনি এক সন্তানের পিতাও হন। যদিও এই সন্তানের জন্য টমাস দিন-রাত গির্জার সামনে বসে প্রার্থনা করতেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। টমাসের যখন ১১০ বছর বয়স; তখন তিনি জেন লয়েড নামে এক বিধবা নারীকে বিবাহ করেন। তারা ১২ বছর সংসার করেছিলেন। এরপর তার দ্বিতীয় স্ত্রীও মারা যান।

রাজা প্রথম চার্লস একবার বিশ্বের এই প্রবীণতম ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন লন্ডনে। এই সময়ের দিকে টমাস অন্ধ এবং শারীরিক ভাবেও দূর্বল ছিলেন। চার্লস তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, অন্য মানুষের চেয়ে তার দীর্ঘায়ু হওয়ার রহস্য কী? টমাস জানান, তিনি ১০০ বছর বয়স থেকেই তপস্যা করছিলেন।

টমাস এরপর থেকে রাজার অনুগ্রহেই লন্ডনে থাকেন। তবে সেখানকার খাবারও এবং পরিবেশের কারণে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ১৬৩৫ সালে টমাস মারা যান। রাজা প্রথম চার্লস তাকে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

উইলিয়াম হার্ভে পরবর্তীতে টমাসের ময়নাতদন্ত করেছিলেন। তিনিই চিকিৎসা বিজ্ঞানে রক্ত সঞ্চালন আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি তার ‘দে অর্তু এট নাটুর সাঙ্গুইনিস’ বইয়ে টমাসের দীর্ঘায়ু ও তার গবেষণার বিষয়টি প্রকাশ করেন।

টমাসের দেহ পরীক্ষা করে তার সব অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে নিখুঁত অবস্থায় দেখতে পান হার্ভে। তার মৃত্যুর কোন কারণ নির্ধারণ করতে পারেননি হার্ভে। ধারণা করা হয়েছিল, খুব বেশি খাওয়ানোর প্রভাবেই মারা গিয়েছিলেন টমাস।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, টমাসের ময়নাতদন্তের ফলাফলে তার শারীরিক অবস্থার যেমন বর্ণনা পাওয়া যায়; তা আধুনিক বিজ্ঞান অনুসারে স্পষ্ট যে সম্ভবত ৭০ বছরেরও কম বয়সী ছিলেন তিনি! তাই টমাসের আসল বয়স কত ছিল শুধুই অনুমান নির্ভর!

বর্তমান তথ্যানুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণতম ব্যক্তির নাম জিন ক্যালমেন্ট। তিনি ১২২ বছর বয়সে মারা যান। অন্যদিকে বিশ্বের জীবিত প্রবীণ ব্যক্তির মধ্যে আছেন কেন তানাকা, যার বয়স ১১৮ বছর। দ্বিতীয় ব্যক্তি লুসিল র্যান্ডন, ওরফে সুর অ্যান্ড্রে। তার বয়স ১১৭ বছর এবং তৃতীয় ব্যক্তির নাম ফ্রান্সিসকা সেলসো ডস সান্টোস, যার বয়স ১১৬ বছর।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »