পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষকের সনদ জালিয়াতি!

মো. সোহেল, জবি প্রতিনিধি »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্নাতকোত্তরের সনদ জালিয়াতি করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা করছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম।

তিনি দারুল ইহসান ট্রাস্ট থেকে ইংরেজি বিষয়ের ওপর স্নাতকোত্তর সনদ জালিয়াতি করে দীর্ঘদিন ধরে এই স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

তবে, ওই সনদের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দারুল ইহসান ট্রাস্ট।

এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে একই স্কুলের খণ্ডকালীন এক সহকারী শিক্ষককে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া দারুল ইহসান ট্রাস্ট থেকে ২০১১ সালে ইংরেজি বিষয়ে ওপর করা একটি স্নাতকোত্তর সনদ স্কুলে প্রদান করেন। তার সনদের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করলে সনদের সত্যতা যাচাইয়ে দারুল ইহসান ট্রাস্টের কাছে চিঠি পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। গত ১৮ জানুয়ারি দারুল ইহসান ট্রাস্ট্রের ফিরতি চিঠিতে সনদের ব্যাপারে কোন সত্যতা পায়নি বলে জানায়। এই সনদ তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইস্যুকৃত নয় বলেও জানানো হয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, শরিফুল ইসলাম একই স্কুলের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক প্রভাত চন্দ্র বণিককে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছেন। এ বিষয়ে প্রভাত চন্দ্র বণিক স্কুলের সভাপতি বরাবর একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার অন্যায় কাজকর্মের প্রতিবাদে অধিকাংশ শিক্ষক পোগোজ স্কুলের সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. কামালউদ্দিন আহমেদকে অভিযোগ জানায়। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কোন নোটিশ ছাড়াই আমাকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করেন। এর কিছুদিন পর তিনি আমাকে ফোন করে বলেন, চাকরি করতে চাইলে আমাকে টাকা দেন, আমি কমিটির কাছে আপনার বিষয়ে সুপারিশ করবো।

আমি তার কথায় রাজি না হওয়ায় অদ্যাবধি তিনি আমাকে স্কুলে যেতে দিচ্ছে না। এছাড়াও ২০১৯ সালের নভেম্বর মাস থেকে আমাকে কোন বেতন প্রদান করা হয় না। কেন বেতন প্রদান করা হয় না এ ব্যাপারে কোন জবাব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে দেয়নি।

সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি দারুল ইহসান থেকে সনদ নিয়েছি। এরপর সরকার এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। আমি এই সনদ আর ব্যবহার করি না। তারা এটাকে কেন জাল সার্টিফিকেট বলছে আমাকে দারুল ইহসানে খবর নিতে হবে।

এ বিষয়ে পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, সনদ জাল কি না তা আমি জানি না। তবে ওইটা যে দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির সনদ না, এটা লেখা আছে। তবে এটা যাচাই বাছাই করবে প্রশাসন। ট্রেজারার স্যারের কাছে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে। তিনি খতিয়ে দেখছেন।

স্কুলের সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, পোগোজ স্কুলের সব অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। সেগুলো খতিয়ে দেখতে আমাকে সময় দিন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »