পিরোজপুরের উন্নয়নে ৬শ’ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

ফিরোজ মাহমুদ »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নদী-নালা, খাল-বিল অধ্যুষিত দক্ষিণের জেলা পিরোজপুর। কৃষিজাত পণ্য ও মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও জেলাটি শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকটাই অনগ্রসর। তাছাড়া উপকূলীয় জেলা হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোও নিয়মিত মোকাবিলা করতে হয় এই জেলার বাসিন্দাদের। জলাশয়ের আধিক্যের কারণে জেলাটি অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিক থেকেও পিছিয়ে রয়েছে।

পিছিয়ে থাকা এই জেলাটির পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর জন্য হাতে নেওয়া হয়েছে ৬শ কোটি টাকার প্রকল্প। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা একনেক সভায় অংশ নেন।

সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব জয়নুল বারী সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের আওতায় পিরোজপুর জেলার ৪৪৮ দশমিক ২৯ কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হবে। এতে করে জেলার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। শুধু তাই নয়, গ্রামীণ জনগণের জন্য বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সুবিধাও বাড়ানো হবে। এতে করে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান বাড়বে। একইসঙ্গে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটি প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ২৯ অক্টোবরে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কিছু সুপারিশ দেওয়া হয়। সেসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। ফলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়। চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।

স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে, পিরোজপুরে মোট নিবন্ধিত গ্রামীণ সড়ক রয়েছে চার হাজার ৭৬৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে কাঁচা সড়কের পরিমাণ দুই হাজার ৮১৩ কিলোমিটার। তাছাড়া এ জেলাটি প্রচুর নদ-নদী অধ্যুষিত বলে অবকাঠামোর অপ্রতুলতা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস নিত্যদিনের সঙ্গী হওয়ায় অবকাঠামো উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই এলাকার গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে। এছাড়া গ্রোথ সেন্টার ও গ্রামীণ হাট-বাজার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ২২ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক উন্নয়ন, ৫৭ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক উন্নয়ন, ৩৬৮ দশমিক ২৯ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক উন্নয়ন, ৭৩২ মিটার গ্রামীণ সড়কে ব্রিজ নির্মাণ, গ্রামীণ সড়কে কালর্ভাট নির্মাণ, ৭৬ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ এবং ১৯টি হাটবাজার ও ঘাটলা নির্মাণ।

প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক সদস্য (সাবেক সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে পল্লী অঞ্চলে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন ও উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবহণ ব্যয় যেমন কমবে, তেমনি জীবনমান উন্নয়ন হবে। এছাড়া, গ্রোথ সেন্টার গ্রামীণ হাট নির্মাণের মাধ্যমে কৃষিপণ্য বিপণন, বাজারজাতকরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এতে কৃষি ও অকৃষি খাতে স্থানীয় ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »