নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডাকাতি-খুনসহ একাধিক মামলার আসামি

বরগুনা থেকে মাহবুব আলম »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১ম ধাপে সারাদেশে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে আগামী ১১ এপ্রিল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বরগুনার বেতাগী উপজেলার ৭নং সরিষামুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনটা পুরোপুরি ব্যতিক্রম। এখানে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন (নৌকা প্রতীক) পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান সিপন জমাদ্দার। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ডাকাতি, খুনসহ একাধিক মামলার আসামি ইউসুফ শরীফ।

বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান সিপন জোমাদ্দার নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করায় তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তিনি চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বর্তমানে বরগুনা জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে দলের জন্য বহুবার জেল খেটেছেন। বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলেও তিনি রাজপথে ছিলেন সক্রিয়।

অন্যদিকে তার প্রতিদ্ব›দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ডাকাতি, খুনসহ একাধিক মামলার আসামি ইউসুফ শরিফ। তার বিরুদ্ধে রয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান ও নৌকার প্রার্থী ইমাম হাসান সিপন জোমাদ্দারকেই হত্যার চেষ্টার অভিযোগ।
জানা যায়, ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান সিপন জমাদ্দার একটি বিবাহ অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ শরিফ তার ৩ ছেলে ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী মিলে হত্যার উদ্দেশ্যে তার উপর আক্রমন করে। এসময় তারা বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান সিপন জোমাদ্দারের দু’পা ও ডান হাত বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। এ ঘটনার পর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জাহাঙ্গীর কবির, সহ-সভাপতি শওকত হাচানুর রহমান রিমন এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকুসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগিতায় প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখান থেকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ পরবর্তীতে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসায় তিনি জীবনে বেঁচে যান।

এ ঘটনার পর ইউসুফ শরীফ তার ছেলেদের নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। তিন মাস পরে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন। ওই ঘটনায় বেতাগী থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনা ছাড়াও ২০০৪ সালের ১০ মার্চ স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ শরীফ প্রকাশ্য দিবালোকে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে রশিদ আকন নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করে।

২০১০ সালের ২০ মার্চ সালাম নামে একজনকে হত্যা করে। একই বছরের ৮ এপ্রিল মতি বিশ^াস নামে একজনকে অপহরণ করে। আজও মতি বিশ^াস নিখোঁজ রয়েছে। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা মামলা রয়েছে।
নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান সিপন জোমাদ্দার বলেন, ৭ নং সরিষামুড়ি ইউনিয়ন এক সময় ডাকাতি, খুন, জখম ও হানাহানি লেগেই থাকত। এই ইউসুফ শরীফ নিজ হাতে অনেক খুন করেছে, ডাকাতি করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক খুন ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। আমি চাই শান্তি। আপনারা জানেন, ইউসুফ শরিফ ও তার ছেলেরা মিলে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কিভাবে জখম করেছিলো। কিন্তু আমি আমার লোকদের শান্ত থাকতে বলেছি।

গত শুক্রবারও সে তার লোকজন নিয়ে আমার কর্মীদের উপরে হামলা চালিয়েছে। কুপিয়ে সআমার কর্মীদের মারাত্বক জখম করেছে। আমার কর্মী দোলন বর্তমানে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এছাড়া কয়েকজন বরগুনা সদর জেনারেল হাসপাতালে ও বেতাগীতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ইউসুফ শরীফের মুঠোফোনে ফোন করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান সিপন জোমাদ্দারের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে। ওই মামলার ৬ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। এছাড়া গত শুক্রবারের ঘটনায় এখনো লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »