ডিসি কার্যালয়ে চাকরি পেলেন তৃতীয় লিঙ্গের দু’জন

রাজশাহী প্রতিনিধি »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে চাকরি পেলেন তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) দুই ব্যক্তি। তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর সদস্য মারুফ কম্পিউটার অপারেটর পদে ও জনি হোসেন অফিস সহায়ক পদে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে (অস্থায়ী) নিয়োগ পেয়েছেন।

মঙ্গলবার প্রথম কর্মদিবস পার করেছেন তারা।

রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গত শনিবার ‘দিনের আলো হিজড়া সংঘ’ নামের একটি সংগঠনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা চলাকালে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বাস্তবতার করুণ চিত্র তুলে ধরেন তারা। তাদের করুণ জীবনযাপনের কথা শুনে তাৎক্ষণিক ভাবে দুজনের চাকরির ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

ডিসির দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, গত সোমবার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দেন মারুফ ও জনি হোসেন। মারুফ মহানগরের ডিঙ্গাডোবা এলাকার কামালের ছেলে ও জনি হোসেন কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার মুনতাজ শাহের ছেলে।

মারুফ ২০১৯ সালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছেন। জনি হোসেন অষ্টম শ্রেণি পাস। নিজ নিজ শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের দু’জনকে নিজ কার্যালয়ে নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরিপ্রাপ্ত দু’জন হিজড়া যতদিন পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত না হবেন, ততদিন পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে মাসিক একটি সম্মানি ভাতা তাদের দেয়া হবে। ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার তারা নিজ নিজ পদে যোগদান করেন।

জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জনি হোসেন বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগদান করলাম। আমাকে এ পদে পদায়ন করার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দিনের আলো হিজড়া সংঘের প্রতিও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এ কাজ পেয়ে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। আমার কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। আমি প্রথম দিন থেকেই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি।’

অন্যদিকে, চাকরির প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মারুফ বলেন, ‘যোগদানের পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কম্পিউটারে বাংলা টাইপিং অনুশীলন করছি। আমরা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অফিসের বিভিন্ন দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি। তৃতীয় লিঙ্গের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের জন্য ডিসি মহোদয়কে অশেষ ধন্যবাদ।’

দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনা মঈন বলেন, ‘তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর দু’জন সদস্য সরকারি চাকরি পাওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। এভাবে সরকারি বিভিন্ন দফতরে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিলে হিজড়ারা তাদের দুরবস্থার উন্নয়ন করতে সক্ষম হবে। হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষ চাঁদাবাজির মতো আদি পেশা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।’

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ‘তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর দু’জনকে চাকরির ঘোষণা দিয়েছিলাম। সোমবার তারা যোগদান করেছেন। রাজশাহীতে প্রকৃত তৃতীয় লিঙ্গ শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে যোগ্যতানুসারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তাদের ধীরে ধীরে সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ তারাও মানুষ, তাদেরও বাঁচার অধিকার আছে। পরিবার ও সমাজচ্যুত করে তাদের কোন ভাবেই উচ্ছৃঙ্খল জীবনের দিকে ঠেলে দেয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতো অন্যদেরও উচিৎ তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা। তাদের হেয় প্রতিপন্ন না করে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া। সমাজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক আছে যাদের জনবল প্রয়োজন। আমি আশা করি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরও চাকরির সমান সুযোগ দেবেন।’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »