টঙ্গীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫

গাজীপুর থেকে মোফাজ্জল হোসেন »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গাজীপুরের টঙ্গীতে শহীদ সুমন আহমেদ মজুমদার স্মৃতি সংসদ ক্লাবের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় আমতলী (কেরানিরটেক) বস্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন সাদ্দাম (২৫), বিপ্লব (৩২) আবু সাঈদ (২৪), রাসেল (২০), আকাশ (২০), সিয়াম (২১), আকতার হোসেন (৪০), নুর মোহাম্মদসহ (৪২) ১৫ জন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। গুরুতর আহত সাদ্দাম, বিপ্লব ও আবু সাঈদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, শহীদ সুমন আহমেদ মজুমদার স্মৃতি সংসদ ক্লাব পরিচালনা করে আসছেন ৪৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা আকতার হোসেন, নুর মোহাম্মদ ও আলালসহ এলাকার তরুণ যুবকেরা। ৪৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনির আহমেদ মজুমদার ও তার দুই ছেলে সাদ্দাম এবং বিপ্লব কিছুদিন যাবত ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন। এ নিয়ে গত ২০ (এপ্রিল) মঙ্গলবার রাতে সাদ্দাম ও বিপ্লবের সঙ্গে আকতার হোসেন ও নুর মোহাম্মদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এতে যুবলীগ নেতা আকতার হোসেন ও নুর মোহাম্মদ আহত হয়। এ ঘটনার পর সাদ্দাম গ্রæপের লোকজন ক্লাবে তালা লাগিয়ে চলে যায়। ওইদিন রাতেই আহত দুইজন টঙ্গী পূর্ব থানায় প্রথক দুটি অভিযোগ করেন। পরদিন বুধবার (২১ এপ্রিল) সকালে আকতার, নুর মোহাম্মদ ও আলালের নেতৃত্বে ক্লাবের তালা ভেঙে ফের ক্লাব ঘরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। এ নিয়ে বুধবার ইফতারের পর দুই পক্ষ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্য সংঘর্ষ বাঁধে।

যুবলীগ নেতা আকতার হোসেন বলেন, মরহুম সুমন আহমেদ মজুমদার আমাদের বন্ধু ছিলেন। তাঁর স্মৃতিকে স্বরণ রাখতে আমরা ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করি। দীর্ঘদিন ক্লাবটি বন্ধ থাকার পর আমরা ক্লাবের সংস্কার কাজ শুরু করি। কিন্তু বিগত কয়েকমাস যাবত ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করেন সুমন মজুমদারের বাবা মনির মজুমদার ও তার দুই ছেলে সাদ্দাম ও বিপ্লব। তাদের উদ্দেশ্য, ক্লাব দখল করে এখানে বসে কেরানিরটেক বস্তির মাদকের নিয়ন্ত্রণ করা।

মনির আহমেদ মজুমদার বলেন, আমার ছেলের নামে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আমরা সেটি তত্ত¡াবধান করতে চেয়েছি। কিন্তু আকতার ও নুর মোহাম্মদ তা চায় না। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি ভাইকে বিষয়টি জানানোর জন্য যাওয়ার পথে কেরানিরটেক পুজা মন্ডপের সামনে আকতার ও নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে ৫০/৬০জন আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় আমার দুই ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে। যারা হামলা চালিয়েছে তারা অধিকাংশই কেরানিরটেক বস্তির মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেন মনির মজুমদার।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) ইলতুৎ মিশ বলেন, একটি ক্লাব ঘরের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অধিপত্য বিস্তারে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ক্লাবের নিয়ন্ত্রণের আড়ালে মাদকের কোন বিষয় রয়েছে কিনা সেটিও আমরা তদন্ত করে দেখছি।

মোফাজ্জল হোসেন
২২.০৪.২০২১

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »