গাজীপুরে সড়কে জলাবদ্ধতা

গাজীপুর থেকে মোফাজ্জল হোসেন »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সোমবার রাতের প্রবল বর্ষণের পরই গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবারও হয়েছে বৃষ্টি।

মঙ্গলবার ভোগড়া বাইপাস এলাকার কনফেকশনারী ব্যবসায়ী জিল্লুর মল্লিক বলেন, সকালে মার্কেটে যেতে পারিনি। সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন নিয়ে বাইরে বের হওয়া যায়নি। যেসব যানবাহন চলেছে সেগুলো ছিল খুব ধীর গতির।

গাজীপুরা এলাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবী মইনুল শেখ বলেন, মঙ্গলবার বাসা থেকে বের হয়ে মহাসড়ক পর্যন্ত যেতে পারিনি। তাই অফিসেও যাওয়া হয়নি। জলাবদ্ধতার কারণে অনেকটা বন্দি থাকতে হয়েছে।

নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ইস্রাফিল জানান, সকালে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুরে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ফেরত এসেছেন। জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে যানবাহনের ধীর গতির কারণে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন।

তিনি জানান, বেলা ১১টার গাজীপুরের সালনা থেকে চার কিলোমিটার পথ চান্দনা চৌরাস্তা যেতে সময় লেগেছে দুই ঘন্টা। ঢাকায় যেতে সময় লাগতে পারে আরও চার ঘন্টা। তাই এদিন ঢাকায় গিয়ে কোন কাজ করতে না পারার শঙ্কায় মাঝ পথ থেকে বাসায় ফিরে এসেছেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক কাদের মোল্লা বলেন, টঙ্গী কলেজ গেট ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় জলাবদ্ধতা ছিল দুপুর পর্যন্ত। পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ, সড়ক ও সিটি কর্পোরেশন যৌথ ভাবে কাজ করেছে। দুপুরের পর পানি কিছুটা নিরসন করা সম্ভব হয়েছে। অপেক্ষাকৃত বেশি দূরত্বে যানবাহন চলেছে ধীর গতিতে। সড়কে গর্ত থাকায় কিছু পানি রয়েছে।

টঙ্গী থেকে গাজীপুরের পোড়াবাড়ীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টাফ বহনকারী মাইক্রোবাসের চালক জুয়েল বলেন, কোন দিকে গর্ত কোন দিকে ভাল পানির নিচে কিছুই বোঝা যায় না। অনুমানে গাড়ি চালানোর ফলে অনেকবার গর্তে পড়তে হয়েছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৭ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ্জোহরা বলেন, সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। বিশেষায়িত কাজগুলো সিটি কর্পোরেশন থেকে কেন্দ্রীয় ভাবে করা হয়।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে। এসবের কাজও দীর্ঘদিন যাবত চলমান রয়েছে। অনেক এলাকায় প্রশস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থাও সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।

বাস রেপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ এস এম ইলিয়াস শাহ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মুঠোফোনে বলেন, টঙ্গী কলেজগেট ও ভোগড়া বাইপাস অংশে বিআরটি প্রকল্পের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। মঙ্গলবার দিনব্যাপী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওইসব অংশসহ বেশ কয়েকটি অংশে আমাদের কর্মীরা কাজ করেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে এখনও কাজ চলমান। যেসব স্থানে বর্জ্য আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে সেসব স্থান পরিস্কার করে দেওয়া হচ্ছে। চলতি বর্ষাতে এমন সমস্যা আর হবে বলে মনে হচ্ছে না। বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলতি জুন মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্ষা থাকলেও কংক্রিটের কাজে কোন সমস্যা হবে না।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »