খুলনায় লকডাউন না মানায় ৯১ হাজার টাকা জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দ্বিতীয় ধাপের লকডাউনের প্রথম দিন খুলনায় ঢিলেঢালাভাবে অতিবাহিত হয়েছে।

সোমবার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকেই খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন সড়কের মোড়ে সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

বিশেষ করে নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও রূপসা ট্রাফিক মোড়ে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে, লকডাউন না মানায় সোমবার প্রথম দিন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০৪টি মামলায় ৯১ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এ অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর নিউ মার্কেট, জলিল টাওয়ার, আক্তার চেম্বার, খুলনা শপিং সেন্টার, এশা চেম্বারসহ বড় বড় বিপনী বিতান বন্ধ ছিল। এসব মার্কেটের দোকানের সামনে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে কর্মচারীদের। তবে, অলিগলির অনেক দোকানপাট খোলা থাকতে দেখা গেছে।

নগরীর সবচেয়ে বৃহৎ ব্যবসাকেন্দ্র বড় বাজারে সকাল থেকেই ছিল মানুষের ভিড়। এ বাজারে আসা ক্রেতাদের দুয়েকজনের মুখে মাস্ক থাকলেও অধিকাংশ ক্রেতাদেরই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

করোনা পরিস্থিতিতে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও জরুরি কাজ ছাড়া বের না হওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা না মেনে জনসাধারণকে স্বাভাবিকভাবেই ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।

লকডাউন কার্যকর করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সকাল থেকে কয়েকজন চালককে জরিমানা করে। তবে তারা চলে যাওয়ার পরপরই আগের মতোই লোকজনকে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায়।

নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে সোমবার কোনো যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়নি। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। তবে, বাস চলাচল না করলেও নগরীতে রিকশা, ইজিবাইক, মাহেন্দ্র ও প্রাইভেট কার চলাচল করতে দেখা গেছে।

জাহিদুল নামে এক যাত্রী বলেন, ‘সকাল ৮টায় এসে দেখি সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছাড়ছে না। এখন ভাবছি কীভাবে বাড়ি যাব।’

নগরীর শেখপাড়া এলাকার রিকশাচালক বাবুল মিয়া বলেন, ‘শুনছি আজকার থেইকা আবার লকডাউন দিছে। তারপরও রিকশা লইয়া বাহির হইছি। রিকশা না চালাইলে খামু কী?’

এদিকে, লকডাউন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোমবার খুলনা মহানগর ও জেলার ৯টি উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনাররা (ভূমি)। একই সময়ে মহানগরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

এসময় সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয় এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে প্রচারণা চালানো হয়।

তবে লকডাউনের নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালন না করায় খুলনা মহানগরে মোট ১০৪টি মামলায় ৯১ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’ এবং ‘দণ্ডবিধি, ১৮৬০’ এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান মোতাবেক অর্থদণ্ড প্রদান করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহযোগিতা করেন পুলিশ, আনসার, র‍্যাব ও এপিবিএন সদস্যরা।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর আকস্মিক সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »