কেউ খোঁজ রাখে না শহীদ মমতাজ আলীর পরিবারের

দেশের কণ্ঠ প্রতিবেদক »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ মমতাজ আলীর পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। কেউ খোঁজ রাখেনা অসহার পরিবারটির। এমন কি শহীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদাটুকুও পাননি শহীদ মমতাজ। শহীদ মমতাজ আলী রাজশাহীর টাংগন গ্রামের আতাহার আলী ছেলে।

শহীদ মমতাজ আলীর স্ত্রী জাহানারা বেওয়া জানান, ১৯৬৯ সালের ৫ মে তার স্বামী মমতাজ আলী ফায়ার ম্যান হিসেবে চাকুরী পান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান ফায়ার সার্ভিসে। যোগদানের পর তাকে পোষ্টিং দেয়া হয় ঠাকুরগাঁও ফায়ার ষ্টেশনে। মানবসেবায় নিয়োজিত মমতাজ আলী ছিলেন কাজের প্রতি অতিশয় নিষ্ঠাবান। কর্মস্থলে যোগদানের পর তিনি স্ত্রী জাহানারাকে সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থলেই অবস্থান করেন। রাজনৈতিক বৈরি আবহাওয়ার সাথে সাথে মমতাজ আলীর মনের মধ্যে দেশাত্ববোধ বাড়তে থাকে। চাকুরী করা কালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নানা কার্যক্রমের সাথে নিজেকে যুক্ত করা শুরু করেন। ৭ ই মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণ তাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুপ্রেরণা যোগায়। একদিন কর্মস্থলে ব্যবহৃত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে অফিস ডিউটি করাকালীন স্ত্রী জাহানারা ও ১ মাসের শিশুপুত্রকে রেখেই স্বাধীনতা যুদ্ধে চলে গেলেন। তার সে যাওয়াই যে শেষ যাওয়া হবে স্ত্রী জাহানার কখনো তা ভাবতে পারেনি। আশায় বুক বেঁধে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত পার করেছেন জাহানারা। একদিন দেশ স্বাধীন হলো কিন্তু মমতাজ আর ফিরলো না। তখন ৭ মাসের শিশুপুত্রকে নিয়ে নানা প্রতিকুলতা পার করে প্রতিবেশীর সহায়তায় রাজশাহীর তালাইমারীতে পৈর্তৃক ভিটায় আশ্রয় নেন জাহানারা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার থেকে মাত্র ২০০০ টাকা দিয়ে মমতাজ আলীর আত্মত্যাগকে সম্মান দেখানো হয়েছিল। কিন্তু তার পর আর কেউ তাদের খোঁজ রাখেনি। এমন কি শহীদ পরিবারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি টুকুই পাননি পরিবারটি। এভাবে নিরবে নিভৃতে কাটতে থাকে শহীদ মমতাজ আলীর পরিবারের।

শহীদ মমতাজ আলীর সহকর্মী বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস থেকে অবসর প্রাপ্ত রাজ্জাক ও জসিম উদ্দিন জানান, মমতাজ চাকুরী থেকে পালিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ করে। পরে আমরা আমাদের সাধ্যমত মমতাজ আলীর স্ত্রী সন্তানকে সাহায্য সহযোগিতা করেছি। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও মমতাজ ফিরে আসেনি। পরে তার স্ত্রী জাহানারা একমাত্র ছেলেকে নিয়ে রাজশাহীতে পিতার বাড়িতে আশ্রয় নেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের পরিবারকে শহীদ পরিবার হিসেবে মর্যাদাসহ নানা সুযোগ সুবিধা পেলেও মমতাজের পরিবার সেই স্বীকৃতি টুকুও পায়নি।

শুনেছি গতবছর রমজান মাসে শহীদ পরিবার হিসেবে কিছু খাদ্য সামগ্রী পেয়েছিলো পরিবারটি। বর্তমানে মমতাজের একমাত্র ছেলে ব্রেনস্টোক করে এখন সয্যাশায়ী। বর্তমানে বৃদ্ধা জাহানারা অসহায় জীবন যাপন করছেন। তাই সরকারের কাছে আবেদন শহীদ মমতাজ আলীর পরিবারটির প্রতি সদয় দৃষ্টি দেওয়া হোক।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »