‘আমি শেষ, এহন এনজিওর টাহা দেব কেমনে’

নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি »

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

‘আমি শেষ অইয়া গেছি, এহন আমি নিজেই বা কি খাবো আর এনজিওর টাহাই বা কেমনে দেবো?’ এমন কথা বলে সোমবার সকালে বিলাপ করছিলেন পিরোজপুরের নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের আমতলা গ্রামের মৎস্য খামারি মো. সোহাগ খান।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাতের কোনো একসময়।  ভুক্তভোগী এ খামারি ওই গ্রামের মাহাবুবুর রহমান খানের ছেলে।

এ ঘটনায় সোমবার ওই ভুক্তভোগী বাদী হয়ে স্থানীয় তিনজনের নামে নাজিরপুর থানায়  অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে পার্শ্ববর্তী রিয়াজ হাওলাদার ওই খামারিকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও গালাগাল করত।

রোববার রাত ৮টার দিকেও তারা তাকে মাছের ঘেরের কাছে এসে গালাগালসহ হত্যার হুমকি দেয়।

ভুক্তভোগী ওই খামারি জানান, তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। বাড়ির কাছের বিভিন্ন মানুষের জমি বছর চুক্তিতে রাখেন।  আর  তাতে গত চার বছর ধরে মাছের খামার করেছেন। প্রথমে নিজের সামান্য কিছু পুঁজি দিয়ে এ খামার শুরু করেন। পরে স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এক একর ২১ শতাংশ জমিতে মাছ চাষ করেন।

সোমবার সকালে উঠে দেখেন ঘেরের বিভিন্ন স্থানে মাছ মরে ভেসে উঠছে। প্রথমে মাছ মরার কারণ  বুঝতে পারেননি। পরে কয়েক জায়গায় দেখেন  বিষাক্ত এক ধরনের ওষুধ দেয়া এবং সেসব জায়গা সাদা হয়ে রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ মো. মোস্তাাফিজুর রহমান জানান, সকালে খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি কিছু মাছ মরে ভেসে উঠেছে। ভাটার কারণে ঘেরের পানি কমে যাওয়ায় কিছু মাছ বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে মরে  রয়েছে।

সোমবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ওই খামারির এক কর্মী ঘেরের মাছ কুড়িয়ে তা অপসারণ করতে কাজ করছেন। সেখানে মিনার কাপ, গ্রাস কাপ, রুই-কাতল সহ বাইম মাছ পর্যন্ত  মরে থাকতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে  থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর (ওসি-তদন্ত) মো. জাকারিয়া হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »